দলের রান একশ ছোঁয়ার আগেই নেই সাত উইকেট। সেখান থেকে রেকর্ড গড়া জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাঝারি পুঁজি এনে দিলেন জেসন হোল্ডার ও রোমারিও শেফার্ড। কিন্তু বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে এই রানকে মামুলি বানিয়ে ছাড়লেন এইডেন মার্করাম।
সঙ্গে কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটনের দারুণ ইনিংসে ক্যারিবিয়ানদের উড়িয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা আহমেদাবাদে বৃহস্পতিবার সুপার এইটে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ৯ উইকেটে জিতেছে প্রোটিয়ারা। ক্যারিবিয়ানদের ১৭৬ রান ২৩ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে গেছে তারা। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ভারতকে হারানোর পর এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে গত আসরের রানার্স-আপরা।
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মার্করাম চলতি আসরে তৃতীয় ফিফটিতে ৮২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। চারটি ছক্কা ও সাতটি চারে সাজানো ৪৬ বলের ইনিংসে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক।
রান তাড়ায় মার্করামের সঙ্গে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেওয়া ডি কক চারটি করে ছক্কা-চারে ২৪ বলে ৪৭ রান করে। ৪৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলতে দুটি ছক্কা ও চারটি চার মারেন রিকেলটন। অবদান কম নয় কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি ও কর্বিন বশের। তিনটি উইকেট নেন এনগিডি, দুটি করে শিকার ধরেন রাবাদা ও বশ। তাদের ছোবলে ৮৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে ৫৭ বলে ৮৯ রানের জুটি গড়েন হোল্ডার ও শেফার্ড। টি-টোয়েন্টিতে অষ্টম উইকেটে যা সর্বোচ্চ। আগের সেরা ছিল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের প্রেস্টন মমসেন ও সাফিয়ান শারিফের ৮০ রানের জুটি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা হয় চমৎকার। শেই হোপ ও ব্র্যান্ডন কিংয়ের ব্যাটে প্রথম দুই ওভারেই ২৯ রান তুলে ফেলে তারা।
ম্যাচের প্রথম ওভারে কেশাভ মহারাজকে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন হোপ। দ্বিতীয় ছক্কায় বল ধরে বাউন্ডারির বাইরে পড়ে যান ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। পরের ওভারে মার্কো ইয়ানসেনকে তিনটি চার হাঁকান কিং। রপর শুরু হয় ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিং বিপর্যয়। রাবাদার দ্বিতীয় বলে কট বিহাইন্ড হয়ে যান হোপ। প্রথম বলেই জীবন পাওয়া শিমরন হেটমায়ার এক বল পর ধরা পড়েন মিডউইকেটে।
রাবাদার মতো এনগিডিও পরের ওভারে ধরে জোড়া শিকার। টানা দুটি চার মেরে পরের বলেই কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন কিং। এক বল পর বোল্ড হয়ে যান রোস্টন চেইস। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাওয়ার প্লেতে আর উইকেট হারাতে দেননি রভম্যান পাওয়েল ও শেরফেন রাদারফোর্ড। কিন্তু তারাও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সপ্তম ওভারে বশকে ছক্কা মারার পরের বলেই বিদায় নেন রাদারফোর্ড। এনগিডি এসে ড্রেসিং রুমে ফেরান পাওয়েলকে। ইয়ানসেনকে চার ও ছক্কা মেরে বশের বলে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন ম্যাথু ফোর্ড।
৭ উইকেট হারিয়ে তখন কাঁপছে ক্যারিবিয়ানরা। দলের হাল ধরেন হোল্ডার ও শেফার্ড। একাদশ ওভারে ক্রিজে যাওয়ার পর দ্বিতীয় বল ছোবল দেয় শেফার্ডের হেলমেটে। সেটা সামলে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। ত্রয়োদশ ওভারে তাদের জুটিতে আসে প্রথম বাউন্ডারি। এরপর যেন আর থামাথামি ছিল না। ১৮তম ওভারে মার্কো ইয়ানসেনের বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে ২৩ রান নেন হোল্ডার।
শেষ দুই ওভারে আসেনি প্রত্যাশিত রান। বশের করা শেষ ওভারের পঞ্চম বলে হোল্ডার রান আউট হলে ভাঙে রেকর্ড জুটি। শেষ বলে বাউন্ডারিতে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন শেফার্ড, ৩৭ বলে। ফোর্ডকে ইনিংসের প্রথম বলে চার মেরে রান তাড়া শুরু করেন মার্করাম। ওভারের পঞ্চম ডেলিভারিতে বাউন্ডারি হাঁকান ডি কক। এরপর কেবল ছুটতে থাকেন তারা দুজন। পরের চার ওভারে দুটি ছক্কা ও পাঁচটি চার মারেন মার্করাম। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে শামার জোসেফকে দুটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকান ডি কক। প্রথম ছয় ওভারে ৬৯ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।
পাওয়ার প্লের পরেও চলে মার্করাম ও ডি ককের তাণ্ডব। গুডাকেশ মোটি ও চেইসকে একটি করে চার ও ছক্কা মারেন ডি কক। চেইসের ওই ওভারে ডি ককের বিদায়ে ভাঙে ৯৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। অষ্টম ওভারে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন মার্করাম, ২৭ বলে। তাকে শেষ পর্যন্ত সঙ্গ দেওয়া রিকেলটনের ব্যাটেও আসতে থাকে বাউন্ডারি। চতুর্দশ ওভারে চেইসকে মার্করাম দুটি ছক্কা হাঁকান, রিকেলটন মারেন একটি। সপ্তদশ ওভারের প্রথম বলে চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন মার্করাম।
সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে রোববার জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই দিনই ভারতের বিপক্ষে লড়বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ডিসি/ আপ্র/ ২৬/২/২০২৬