গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ইসলাম===

শ্রেষ্ঠনবীর আদর্শ অনুসরণেই বিশ্বশান্তি নিহিত

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:১৫ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৮ এএম ২০২৬
শ্রেষ্ঠনবীর আদর্শ অনুসরণেই বিশ্বশান্তি নিহিত
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মাহমুদ আহমদ

বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সর্বত্রই ভয়-ভীতি আর অশান্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অস্ত্র-শস্ত্র এবং মানুষকে ধ্বংস করে দেওয়ার অস্ত্র ও মাধ্যম সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। একজন অন্যজনের শত্রু বনে বসে আছে। শক্তিশালী জাতি তার চেয়ে তুলনামূলক দুর্বল জাতির ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাস দমনের নামে বৃহৎ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্ব যে বড় বড় সমস্যায় জর্জরিত, এসব পরিস্থিতিকে যদি এক বাক্যে বলতে হয়; তাহলে মৌলিক সমস্যা হলো- শান্তি উঠে যাওয়া আর এটি নিরসনে আজ পর্যন্ত যত চেষ্টা-প্রচেষ্টা করা হয়েছে, তা বাহ্যত সবই ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘও ব্যর্থ হয়েছে।

পুরো মানবজাতি আজ অস্থির যে, তাদের কখন, কোথা থেকে এবং কীভাবে শান্তি নামের অমূল্য সম্পদ জুটবে। হ্যাঁ, পুরো বিশ্বে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে কিন্তু তা কেবল পবিত্র কোরআনে উপস্থাপিত শিক্ষামালা অবলম্বনের মাধ্যমেই সম্ভব। কোরআন মজিদ আল্লাহতায়ালার সেই পবিত্র বাণী, যা রহমান ও রহিম খোদা অবতীর্ণ করেছেন। আর এটি এক পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ এবং স্থায়ী শরিয়ত হিসাবে অবতীর্ণ হয়েছে।

যে বিষয়ে আল্লাহতাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে এক নূর এবং উজ্জ্বল কিতাবও। এর মাধ্যমে আল্লাহ সেসব লোককে শান্তির পথে পরিচালিত করেন, যারা তার সন্তুষ্টির পথে চলে। আর তিনি নিজ আদেশে তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং সরল সুদৃঢ় পথে তাদের পরিচালিত করেন’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ১৫-১৬)।

বিশ্বনবী ও শ্রেষ্ঠনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কল্যাণমণ্ডিত পুরো জীবন এ বিষয়ের জীবন্ত সাক্ষী। তিনি শান্তি ও নিরাপত্তার এক মহান মূর্তিমান প্রতীক হিসাবে জীবন যাপন করেছেন এবং চরম প্রতিকূল ও কঠিন পরিস্থিতিতেও শান্তির পতাকা উঁচু রেখে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, কোরআনি শিক্ষামালার ওপর আমল করলে পরেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। মহানবীর (সা.) মক্কি জীবন এবং মাদানি যুগেও তার পুরো জীবনাদর্শ এমন সব ঘটনাবলিতে পরিপূর্ণ যে, কীভাবে তিনি (সা.) তার মান্যকারীদেরকে পবিত্র কোরআনের শিক্ষামালার কল্যাণে শান্তির মূর্তিমান প্রতীক বানিয়ে দিয়েছিলেন। যুদ্ধ ক্ষেত্রেও তিনি মুসলমানদের সামনে এক পরম সহানুভূতিপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ উত্তম নৈতিক আদর্শ উপস্থাপন করেছেন।

যুদ্ধের নাম নিলেই তো বর্তমান যুগের নামসর্বস্ব সভ্য দেশগুলো নম্রতা, নৈতিক আচরণ, সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের সব দাবি সম্পূর্ণভাবে ভুলে যায়। কিন্তু বিশ্ব শান্তির মহানায়ক হজরত মুহাম্মদ (সা.) যুদ্ধ এবং হানাহানির ক্ষেত্রগুলোয় শান্তি ও নিরাপত্তার উন্নত মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে এমন অতুলনীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন- যা সব যুগে পুরো মানবজাতির জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে। মক্কা বিজয়ের দৃষ্টান্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট সাক্ষী। মহানবীর (সা.) সব শত্রুকে ক্ষমা করে বিশ্ব ইতিহাসে যে দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন, কেয়ামত পর্যন্ত এর কোনো উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিভিন্ন চুক্তি পালনের ক্ষেত্রে মহানবী (সা.) সর্বদা এমন আদর্শ দেখিয়েছেন- যার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

শান্তির অভিযাত্রা এক ব্যক্তিসত্তা থেকে শুরু হয়। এর বীজ মূলত সবচেয়ে প্রথমে মানুষের হৃদয়ে বপন করা হয়। এটি যখন বর্ধিত হয়, তখন সেই ব্যক্তির পরিবার শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করে। এরপর এটি পারিবারিক জীবনকে ছাড়িয়ে শান্তির এই কল্যাণ সমাজে এবং চারপাশে বিস্তার লাভ করে। এর পরবর্তী ধাপ জাতীয় শান্তি ও নিরাপত্তা হয়ে থাকে যা অবশেষে আন্তর্জাতিক শান্তির রূপ ধারণ করে নেয়।

মহানবীর (সা.) হাত ধরেই পৃথিবীর শান্তি-শৃঙ্খলা, উন্নতি ও অগ্রগতির সূচনা হয়েছে। তিনি এসে দিশেহারা জাতিকে মুক্তির অমীয় বাণী শোনালেন, যার মাধ্যমে তাদের সামনে সভ্যতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয় এবং বিশ্বশান্তির পথ আলোকিত হয়। আজকের সমস্যায় জর্জরিত, মানবতা বিবর্জিত, অশান্ত ও অসভ্য পৃথিবীতে মানবতা, শান্তি-সমৃদ্ধি ও সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদেরকে শ্রেষ্ঠনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ এবং পবিত্র কোরআনের শিক্ষা অনুসরণের করার বিকল্প নেই। মহানবী (সা.) তিলে তিলে তিনি অন্ধকার পৃথিবীকে নতুন রূপে আলোকিত পৃথিবী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একদল আদর্শ মানুষ গড়ে তোলেন, যাদের নিয়ে তিনি পরবর্তীকালে একটি আদর্শ রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন।

শ্রেষ্ঠনবীর (সা.) রেখে যাওয়া দৃষ্টান্ত ও কথামালা যুগে যুগে হাজারো দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়েছে। তিনি বলেছেন, কোনো অনারবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। (মুসনাদে আহমদ) এভাবে তিনি পৃথিবীর সব গোত্রীয় ও জাতিগত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়েছেন। এটি কোনো ধারণাপ্রসূত ও কাল্পনিক ফরমুলা নয়; বরং এমনই সত্য- যার প্রকাশ পুরো বিশ্বে দৃষ্টিগোচর হয়। পবিত্র কোরআন মাজিদ শান্তির বীজ হিসাবে আল্লাহতায়ালার অস্তিত্বে পূর্ণ ইমান আনাকে উপস্থাপন করেছে। এর স্পষ্ট প্রমাণ হলো, যারা আল্লাহতায়ালার অস্তিত্বে জীবন্ত ইমান রাখে, তারা কখনও অস্থিরতা বা মানসিক চাপের ততটুকু শিকার হয় না, যাতে নিজের জীবন সম্পর্কেই নিরাশ হয়ে যেতে হয়।

আমরা দেখি, সেসব মনোনীত ব্যক্তি যাদেরকে আল্লাহতায়ালা নিজে বেছে নিয়ে নবুয়তের মর্যাদায় ভূষিত করেন, তাদের হৃদয়ে এমন শান্তি ও প্রশান্তি ভরে দেন যে, পার্থিব জগতের শত বিরোধিতা এবং বিপদাপদের ঝড়-তুফান সত্ত্বেও তারা সর্বদা আল্লাহতায়ালার আঁচলের সাথে সম্পৃক্ত থাকার ফলে শান্তি ও নিরাপত্তার জান্নাতে জীবন কাটান। পৃথিবীর ইতিহাসে একজন নবী (্আ.)-ও এমন অতিবাহিত হননি, যিনি পরিস্থিতির শিকার হয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাদের হৃদয় সর্বদা স্থায়ী শান্তি ও স্বস্তির আবাসস্থল হয়ে থাকে। তাদের হৃদয় আল্লাহতায়ালার প্রতি তাদের দৃঢ় বিশ্বাস এবং তার স্মরণ সর্বদা আলোকিত রাখে।

প্রত্যেক উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সময় রহিম ও করিম খোদার রহমতের ছায়া তাদের মাথার ওপর বিরাজ করে এবং আল্লাহতায়ালার ক্ষমতাবলে তাদের তত্ত্বাবধান করেন। কোরআন মজিদ এই মৌলিক বিষয়টিকে এভাবে বর্ণনা করেছে, হৃদয়ে প্রকৃত ও সত্যিকারের শান্তি ও স্বস্তি আল্লাহতায়ালার স্মরণেই পাওয়া সম্ভব আর আল্লাহতায়ালাকে স্মরণ করার সম্পদ আল্লাহতায়ালার সত্তায় পূর্ণ ইমান বলেই পাওয়া যায় (সুরা রাদ)।

প্রকৃতপক্ষে হৃদয়ে যদি আল্লাহতাআলার অস্তিত্ব সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকে এবং দৃঢ় বিশ্বাস সৃষ্টি হয়ে যায় তাহলে এটিই সেই ব্যবস্থাপত্র যা বিশ্ব শান্তির নিশ্চিত ও সত্যিকার মাধ্যম। এই মূলনীতি বর্ণনা করার পাশাপাশি পবিত্র কোরআন বলে, শান্তি ও নিরাপত্তার অভিযাত্রা পরিবার থেকে শুরু হয়। পরিবারগুলোকে শান্তির নীড়ে পরিণত করার জন্য এবং জান্নাত সদৃশ বানানোর জন্য পবিত্র কোরআন পূর্ণাঙ্গ শিক্ষামালা উপস্থাপন করেছে।  শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড়ো বাধা হলো, বিশ্বের বিভিন্ন জাতিতে বর্ণের অহংকার ও জাতিগত গর্ব। পবিত্র কোরআন ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সহিষ্ণুতার এক মূর্তিমান প্রতীক। দেখুন, পবিত্র কোরআনে কত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে : ধর্মের ব্যাপারে কোনো বলপ্রয়োগ নেই। কেননা হেদায়েত এবং ভ্রষ্টতার মাঝে পার্থক্য ভালোভাবে স্পষ্ট হয়ে গেছে (সুরা বাকারা)।

পবিত্র কোরআনে কত সুন্দর দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তিকে জোর করে ইসলামে প্রবেশ করানোর প্রয়োজন কী যখন কিনা ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব দিব্য-দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। অন্য এক স্থানে ধর্মীয় স্বাধীনতার ঘোষণা এ ভাষায় করা হয়েছে যে, তুমি বলে দাও, এই সত্য তোমাদের প্রভু প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব, যার ইচ্ছে এতে ইমান আনুক, যার ইচ্ছে অস্বীকার করুক (সুরা কাহফ)।

পবিত্র কোরআনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সমাজ জাতীয় শান্তি ও নিরাপত্তার জামিনদার হয়ে যায় এবং অবশেষে যদি বিশ্বের সকল রাষ্ট্র নিজ নিজ স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এসব মূলনীতিতে সংঘবদ্ধ হয়ে যায় এবং পবিত্র কোরআনের শিক্ষামালাকে পথ-নির্দেশক বানিয়ে এসব মূলনীতি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে বলা যায়, বিশ্বশান্তি পুরো বিশ্বের ভাগ্যে অবশ্যই জুটবে।  সমাজ ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চাই সব ধর্মের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন। মহানবী (সা.) তার জীবন দ্বারা এ কথা প্রমাণ করে গিয়েছেন, ধর্মের নামে কোনো অন্যায়-অবিচার নেই। সব ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ও তাদের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো শ্রদ্ধার পাত্র।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.) সমাজের সর্বক্ষেত্রে এবং সব জাতির মাঝে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। তাই সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বীশেষে সব মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখানো উচিত এবং মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহতাআলা আমাদের ওই তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও ইসলামী চিন্তাবিদ

কেএমএএ/আপ্র/০৪.১০.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

শুভ মহালয়া শনিবার, শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা
০৯ অক্টোবর ২০২৬

শুভ মহালয়া শনিবার, শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা নিয়ে শনিবার (১০...

আল্লাহর সাহায্য পেতে ধৈর্য ও নামাজের শিক্ষা
০৮ অক্টোবর ২০২৬

আল্লাহর সাহায্য পেতে ধৈর্য ও নামাজের শিক্ষা

আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহ সবার প্রয়োজন হয়। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া বিপদ থেকে উদ্ধার বা সুখের মুহূর্ত স্...

২০২৭ সালের রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
০৫ অক্টোবর ২০২৬

২০২৭ সালের রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে।...

২০৩০ সালে একই বছরে দুইবার রমজান!
০৩ অক্টোবর ২০২৬

২০৩০ সালে একই বছরে দুইবার রমজান!

২০৩০ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার পবিত্র রমজান মাস পেতে যাচ্ছেন বিশ্বের মুসলমানরা। জানুয়ারি ও ডিস...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই