গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

মেনু

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ

‘কিচেন কেবিনেটে’ ছিলাম না, বিএনপির সমঝোতা ও সম্মতির ভিত্তিতেই বাণিজ্যচুক্তি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:০৩ পিএম, ২৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ০১:৩৪ এএম ২০২৬
‘কিচেন কেবিনেটে’ ছিলাম না, বিএনপির সমঝোতা ও সম্মতির ভিত্তিতেই বাণিজ্যচুক্তি
ছবি

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন এনসিপি’র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া -ছবি সংগৃহীত


জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ 
‘কিচেন কেবিনেটে’ ছিলাম না, বিএনপির সমঝোতা ও সম্মতির ভিত্তিতেই বাণিজ্যচুক্তি 
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পরিচালনায় একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ ছিল। তবে তিনি সেই কেবিনেটের সদস্য ছিলেন না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কেবল আনুষ্ঠানিক উপদেষ্টা পরিষদ নয়, অন্যত্রও নির্ধারিত হতো বলে এখন বিভিন্ন মহল থেকে যে আলোচনা সামনে আসছে, তা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ঝিনাইদহে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে এক সাংবাদিক অন্তর্বর্তী সরকারের কথিত ‘কিচেন কেবিনেট’ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘কিচেন কেবিনেট ছিল। কিন্তু আমি সেটার সদস্য ছিলাম না। এখন তো আবার শুনছি, কিচেন কেবিনেটেও সব সিদ্ধান্ত হতো না।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও প্রশাসনিক পরিভাষায় ‘কিচেন কেবিনেট’ বলতে সরকারপ্রধানের ঘনিষ্ঠ ও অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টাদের এমন একটি গোষ্ঠীকে বোঝানো হয়, যাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যদিও তারা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কাঠামোর অংশ নাও হতে পারেন।

সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টার বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক বড় সিদ্ধান্ত উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা না হয়ে অন্যত্র নির্ধারিত হতো। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ থাকলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কেবিনেটের বাইরে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সাত সদস্যের একটি কিচেন কেবিনেট সক্রিয় ছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর উৎস ছিল সেই গোষ্ঠী। তিনি আরো বলেন, এসব হস্তক্ষেপ ও মন্ত্রণালয়ের কাজে প্রভাব বিস্তারের কারণে তিনি একাধিকবার পদত্যাগের কথা ভেবেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও বিস্তারিত বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, এ চুক্তি নিয়ে এনসিপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং দলটির মতামতও নেওয়া হয়নি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হয়, তখন আমি সরকার থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির দায়িত্বে ছিলাম। ফলে চুক্তি সম্পর্কে আমার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানার সুযোগ ছিল না।’

তিনি বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে যে চুক্তির বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি দলের আহ্বায়কসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন যে এনসিপির সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কেউ কোনো ধরনের পরামর্শ করেনি, মতামত নেয়নি বা কোনো উদ্বেগ-আপত্তি জানতে চায়নি। এ বিষয়ে আমরা পরিষ্কার অবস্থান জানাচ্ছি।’

চুক্তি নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাবেক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এবং আসিফ নজরুলও বিভিন্ন বক্তব্যে জানিয়েছেন, তাঁরা চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। ফলে চুক্তি সম্পাদনের পুরো প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, ‘যদি দেখা যায় যে কয়েকজন উপদেষ্টাও চুক্তির বিষয়ে জানতেন না, তাহলে প্রশ্ন আসে—সিদ্ধান্তটি কীভাবে নেওয়া হলো এবং কারা নিয়েছে?’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই চুক্তি বিএনপির সমঝোতা ও সম্মতির ভিত্তিতেই হয়েছে। নির্বাচনের তিন দিন আগে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে এটি সম্পন্ন করানো হয়েছে এবং পরে এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে।’

তাঁর দাবি, চুক্তিটি করার জন্য সরকারের হাতে ৯০ দিনের সময় ছিল। কিন্তু নির্বাচন সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে এক মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন করা হয়। এ কারণে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বর্তমান সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যদি চুক্তিটি আপনাদের সম্মতিতে হয়ে থাকে, তাহলে তার দায়ও আপনাদের নিতে হবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে চুক্তিটি পর্যালোচনা করুন, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী ধারা থাকলে বাতিল বা সংশোধনের উদ্যোগ নিন।’

তিনি অভিযোগ করেন, চুক্তিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষায়, ‘এটা ব্লেম গেমের রাজনীতি। মানুষকে বিভ্রান্ত না করে সত্যটা স্পষ্ট করতে হবে।’

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদিত হাটের বাইরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের উদ্যোগে হাট বসিয়ে হাসিল আদায় করছেন।

তাঁর অভিযোগ, বনশ্রী, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। যাঁরা সরকারি ইজারা পাননি, তাঁরাই বিকল্পভাবে হাট পরিচালনা করছেন। এমনকি কোথাও কোথাও অবকাঠামোগতভাবে অনুপযুক্ত স্থানেও হাট বসানোর অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন প্রসঙ্গেও সমালোচনামুখর ছিলেন সাবেক এই ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান কাঠামোয় যোগ্যতার চেয়ে পারিবারিক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রিপোর্টে দেখলাম, একজনের আত্মীয়স্বজনের একাধিক সদস্য কাউন্সিলর হয়েছেন। ফুফাতো ভাই, চাচাতো ভাই, ভাগনে—সবাই বিভিন্নভাবে যুক্ত। মনে হচ্ছে আমরা যেন রাজতন্ত্রে বসবাস করছি।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গনে দলীয়করণ না করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার পরিবর্তে পরিবারকরণ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, এস এম সাইফ মোস্তাফিজসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/২৭/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

শুধু সংসদে কথা বলেই বিরোধী কাজ শেষ নয়
২৪ মে ২০২৬

শুধু সংসদে কথা বলেই বিরোধী কাজ শেষ নয়

মতবিনিময় সভায় মিয়া গোলাম পরওয়ার

ভায়োলেন্স’ চাইলে আমাদের থেকে বেশি কেউ পারবে না, জুলাই অভ্যুত্থানে দেখিয়েছি
২৩ মে ২০২৬

ভায়োলেন্স’ চাইলে আমাদের থেকে বেশি কেউ পারবে না, জুলাই অভ্যুত্থানে দেখিয়েছি

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় আসিফ মাহমুদের হুঁশিয়ারি

শিশু নির্যাতন নিয়ে কড়া বার্তা মির্জা ফখরুলের
২১ মে ২০২৬

শিশু নির্যাতন নিয়ে কড়া বার্তা মির্জা ফখরুলের

দেশে বাড়তে থাকা শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়ের ফল বলে মন্তব্য করেছেন স্থা...

এই দেশের মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না: মির্জা ফখরুল
২১ মে ২০২৬

এই দেশের মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই