দেশে জ্বালানি তেলের সংকট ও জনদুর্ভোগের বাস্তব চিত্র জানতে রাজধানীর আসাদ গেট এলাকায় একটি পেট্রলপাম্প পরিদর্শন করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় মোটরসাইকেলচালকদের আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে যেখানে তারা দৈনিক দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আয় করতেন, এখন তা নেমে এসেছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এতে নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জামায়াত আমির জানান, দেশে জনদুর্ভোগ আছে কি না, তা সরেজমিন বোঝার জন্যই তিনি পাম্প পরিদর্শনে গিয়েছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তেলের বাজারে অস্থিরতা ও চাঁদাবাজির কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এর চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকার বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, সত্য পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরলে মানুষ ধৈর্য ধরবে; কিন্তু সংকট অস্বীকার করলে বিভ্রান্তি বাড়বে।
সংসদে জ্বালানি তেল নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারের দাবি অনুযায়ী তেলের বিক্রি বাড়েনি; বরং পাম্পে গিয়ে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, ভোর পাঁচটা থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ সীমিত পরিমাণ তেল পাচ্ছে। প্রাইভেট কারচালকেরা দিনে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকার তেল পাচ্ছেন, আর মোটরসাইকেলচালকেরা পাচ্ছেন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল। অনেককে ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সরকারের ‘সংকট নেই’ বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একই গাড়ি বারবার তেল নিয়ে বিক্রি করছে—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি খোলামেলা সত্য তুলে ধরে সম্মিলিতভাবে সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান।
কৃষি খাতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংকট আড়াল করা হলে কৃষকেরা কীভাবে সেচের জন্য তেল পাবেন।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদিকে জনগণের ন্যায্য চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে ভুল তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, যা জাতীয়ভাবে লজ্জাজনক।
এ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলচালকেরা জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে আলোচনা ও প্রয়োজনে আন্দোলনের আহ্বান জানান। জবাবে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আন্দোলনে নামতে হবে।
এদিকে, একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রবণতা থাকলেও দেশে মূল্য সমন্বয়ের নামে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা জনজীবনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
সানা/আপ্র/১৯/৪/২০২৬