গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

মেনু

চোখেই কোণেই লুকিয়ে আছে ফ্যাটি ‍লিভারের লক্ষণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ০৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৪ এএম ২০২৬
চোখেই কোণেই লুকিয়ে আছে ফ্যাটি ‍লিভারের লক্ষণ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়াকে ফ্যাটি লিভার বলে। প্রধানত দুই ধরনের ফ্যাটি লিভার দেখা যায়: অ্যালকোহলজনিত এবং নন-অ্যালকোহলিক। সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে এই রোগটি হয়ে থাকে।

ফ্যাটি লিভার এখন আর শুধু প্রবীণদের অসুখ নয়। বরং আজকাল মানসিক চাপের জেরে কমবয়সিদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে।

চিন্তার বিষয় হল, ফ্যাটি লিভার অনেক সময় নীরবে মানবদেহের ক্ষতি করে চলে। প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনও স্পষ্ট উপসর্গই থাকে না।

তবে চিকিৎসকদের মতে, লিভারের সমস্যার কিছু লক্ষণ মানব চোখের পরিবর্তনেই ধরা পড়তে পারে। কারণ লিভার রক্ত পরিশোধন, বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত হলে তার প্রভাব চোখেও পড়তে পারে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে এ সমস্যার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ফ্যাটি লিভারের কারণে চোখে যে যে পরিবর্তন দেখা যায়

১. চোখের সাদা অংশে হলদেটে ভাব

মানব চোখের সাদা অংশে হলুদ আভা দেখা গেলে তা জন্ডিসের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে এমনটা হয়ে থাকে। এটি ফ্যাটি লিভারের সিভিয়ার স্টেজ বা লিভারের গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এই পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

২. চোখে শুষ্কতা ও জ্বালাভাব

চোখ বারবার শুকিয়ে যাওয়া, পাশাপাশি চোখে জ্বালাতন বা অস্বস্তি অনুভব করা, অনেক সময় শরীরের অভ্যন্তরীণ বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে এ ধরনের প্রদাহ বাড়ে, যা চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

৩. চোখের নিচে কালো দাগ

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরেও যদি চোখের নিচের কালো দাগ না কমে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। লিভারের সমস্যার কারণে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি তৈরি হতে পারে, যার ছাপ চোখের চারপাশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

৪. চোখের চারপাশে ফোলাভাব

চোখের পাতা বা চারপাশে অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দিলে তা মানব শরীরে তরল জমার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়। বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতা এবং লিভারের কার্য-ক্ষমতা কমে যাওয়ার সঙ্গে এই সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।

৫. ঝাপসা দৃষ্টি

সব ক্ষেত্রে না হলেও, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে চোখে ঝাপসা দেখার সম্পর্ক পাওয়া যায়। বিশেষত ডায়াবেটিস বা মেটাবলিক সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

কেন দেরিতে ধরা পড়ে ফ্যাটি লিভার?

ফ্যাটি লিভারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি প্রায় উপসর্গহীন থাকে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় বা অন্য কোনো কারণে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করতে গিয়ে ধরা পড়ে রোগটি।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

স্থূলতায় ভোগা ব্যক্তি, ডায়াবেটিস আক্রান্ত, যাদের শরীরে কোলেস্টেরল মাত্রা বেশি, শারীরিক পরিশ্রম কম করেন যারা, অতিরিক্ত মিষ্টি, ঠান্ডা পানীয় ও জাঙ্ক ফুড যারা খায়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি চোখের রঙে পরিবর্তন আসে, দীর্ঘদিন শরীরে ক্লান্তি ভাব থাকা, চোখের চারপাশে অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দেয় বা ঝাপসা দেখতে শুরু করেন, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে লিভার ফাংশন টেস্ট ও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করিয়ে নেওয়া উচিত।

এটি প্রতিরোধের উপায়

ফ্যাটি লিভার (Fatty Liver) প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর হল জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

খাদ্যাভ্যাস: খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, তাজা ফলমূল, ওটস এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। চিনি, মিষ্টি, কোমল পানীয় এবং ভাজাপোড়া ইত্যাদি খাবার এড়িয়ে চলুন।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।

শারীরিক চর্চা: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটা বা ব্যায়াম করা উচিত।

ঘুম ও জীবনযাত্রা: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন এবং ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা দরকার।

মনে রাখবেন, চোখের এই পরিবর্তনগুলি মানেই যে ফ্যাটি লিভার, এমন নয়। তবে এগুলো শরীরের ভেতরে কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে সময়মতো পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

এসি/আপ্র/০৩/০৬/২০২৬

 

 

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ঘরেই তৈরি করুন টক-ঝাল-মিষ্টি লিচুর আচার
০৩ জুন ২০২৬

ঘরেই তৈরি করুন টক-ঝাল-মিষ্টি লিচুর আচার

গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো ও সুস্বাদু লিচুর মৌসুম। কিন্তু এই প্রিয় ফলটির একটি বড় আফসোস হলো, খুব অল্প সময়...

চুলের সৌন্দর্যচর্চায় ধূপের ঐতিহ্য, উপকারিতা ও বাস্তবতা
০২ জুন ২০২৬

চুলের সৌন্দর্যচর্চায় ধূপের ঐতিহ্য, উপকারিতা ও বাস্তবতা

চুলে ধূপ বা ধুনোর ব্যবহার দক্ষিণ এশিয়ার বহু পুরোনো একটি রূপচর্চার অংশ। বিশেষ করে সামব্রানি (সামব্রাণ...

কোরবানির মাংস খেয়ে পেট খারাপ? কি করণীয়!
০২ জুন ২০২৬

কোরবানির মাংস খেয়ে পেট খারাপ? কি করণীয়!

ঈদুল আজহা মানেই পরিবারের সঙ্গে মাংসের নানা পদের আয়োজন। তবে আনন্দঘন এই সময়েই অনেকের পেট ব্যথা, গ্যাস,...

ব্রেইন টিউমারের যে লক্ষণগুলোতে অবহেলা করা ঠিক না
০২ জুন ২০২৬

ব্রেইন টিউমারের যে লক্ষণগুলোতে অবহেলা করা ঠিক না

একটানা কাজ করার কারণে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মানসিক অলসতা বা হালকা মাথাব্যথার মতো সমস্যা আমাদের অনেকের...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

বর্তমান সরকারের চারমাস পূর্ণ না হতেই হঠাৎ মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ালেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক এই পদত্যাগের পেছনে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি কি মনে করেন তিনি সত্যিই অসুস্থতার কারণে সরে গেলেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে