লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি খাবার হজমে সহায়তা, বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ, শক্তি সঞ্চয় এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। তবে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমানে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অবহেলা করলে ফ্যাটি লিভার থেকে প্রদাহ, সিরোসিস এমনকি লিভার বিকলের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকা জরুরি।
অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট
অতিরিক্ত চিনি এবং ময়দাজাতীয় খাবার শরীরে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ায়। এর একটি অংশ লিভারে জমে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত লাল মাংস
তেলে ভাজা খাবার এবং অতিরিক্ত লাল মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে লিভারে চর্বি জমা, প্রদাহ এবং কোলেস্টেরলের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে, যা লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন
অতিরিক্ত প্যারাসিটামল, ব্যথানাশক ওষুধ বা কিছু হার্বাল সাপ্লিমেন্ট দীর্ঘদিন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে। তাই যেকোনো ওষুধ নিয়মিত গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব
নিয়মিত কম ঘুম শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ায়, যা নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে সম্পর্কিত। সুস্থ লিভারের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম প্রয়োজন।
কম পানি পান করা
পর্যাপ্ত পানি শরীর থেকে বর্জ্য ও বিষাক্ত উপাদান অপসারণে সহায়তা করে এবং লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম সহজ রাখে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি।
লিভার সুস্থ রাখতে যা করবেন
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ওটস, ব্রাউন রাইস, ডাল, বাদাম, অলিভ অয়েল ও চর্বিহীন মাছ রাখতে পারেন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার লিভারের প্রদাহ কমাতে সহায়ক।
এ ছাড়া নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ, লিভারের অনেক রোগই প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। তাই দীর্ঘমেয়াদে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হেলথলাইন ও অন্যান্য
এসি/আপ্র/২৩/০৭/২০২৬