মশা নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হবে। যেসব বাড়ির ছাদে টব বা পাত্রে পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে মশার প্রজনন বৃদ্ধি না পায়। জল ও স্থলে স্প্রে কার্যক্রম চালানো হবে। পাশাপাশি লার্ভা নিধনে ট্যাবলেট ব্যবহার করা হবে, যা ড্রেন, ডোবা ও জমে থাকা পানিতে প্রয়োগ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেক পরিত্যক্ত ওয়াশরুমে কমোডে পানি জমে থাকে, যেখানে মশার প্রজনন ঘটে। এসব জায়গা চিহ্নিত করে স্প্রে ও ট্যাবলেট প্রয়োগ করতে সিটি করপোরেশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে এক লাখ ফ্লুইড ডোনেশন পাওয়া গেছে। হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ফ্লুইড স্টক রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালভিত্তিক বেড সংখ্যা এবং ফ্লুইড মজুতের তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
তিনি বলেন, স্যালাইন ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের স্টক বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী তিন দিনের মধ্যে ভবিষ্যৎ চাহিদার তথ্যও জানাতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এটি শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। সরকার ব্যর্থ হলে সবাই ব্যর্থ হবে, তাই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অপরদিকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক ফি মওকুফের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
একটি সভা শেষে তিনি জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর নিয়মিত বিশ্লেষণ আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় সভা চলছে।
মশা নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা পরীক্ষাগারে যাচাই করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তবে মাঠপর্যায়ে স্প্রে কার্যক্রমে কিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যা তদারকির আওতায় আনা হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী শনিবার থেকে দেশব্যাপী বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানান তিনি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সব জেলা ও বিভাগীয় শহরে র্যালি, মাইকিং, উঠান বৈঠক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।
সানা/আপ্র/৩/৬/২০২৬