গাজা উপত্যকার নুসেইরাত এলাকায় একটি জানাজার নামাজে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২০ জন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৭ জুলাই) নুসেইরাতে এক ব্যক্তির জানাজা চলাকালে এ হামলা চালানো হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, যার জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, তিনি একই দিন নুসেইরাতে পৃথক এক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। একই দিনে গাজার বিভিন্ন এলাকায় আরো কয়েকটি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হন। সব মিলিয়ে শুক্রবারের হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা অন্তত ১২ জনে পৌঁছেছে।
হামাস এ ঘটনাকে শোকাহত মানুষের ওপর চালানো ‘নৃশংস গণহত্যা’ উল্লেখ করে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো ও জাতিসংঘের প্রতি গাজায় হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর একটি সেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় অসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তারা অবগত বলে জানিয়েছে।
এদিকে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ড্রোনে সংযুক্ত লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের সংঘর্ষ কমলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রাজনৈতিক সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি (ACLED) জানিয়েছে, জুন মাসে গাজায় ৪০টির বেশি ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়েছে। এসব হামলায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, বিশেষজ্ঞ ও কয়েকজন বিশ্বনেতা এ অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সূত্র: দ্য নিউ আরব
এসি/আপ্র/১৮/০৭/২০২৬