প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক পরিণতি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যার ধারাবাহিকতায় জুলাই আন্দোলন গড়ে উঠেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজনে ‘মননে জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ যেমন হঠাৎ করে হয়নি, তেমনি জুলাই আন্দোলনও কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানুষের ক্ষোভ ও আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন পূর্ণতা পেয়েছে।”
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের আর্তনাদ, বৈষম্যের শিকার মানুষের ক্ষোভ, সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলন একটি বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারী শাসনের অবসান এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, কম্বোডিয়ার হুন সেন দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৩ সালে তার ছেলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। শেখ হাসিনাও পরিবারকেন্দ্রিকভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “তিনি ক্ষমতা ছাড়লে ছেলে, মেয়ে কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা নিজেদের মধ্যেই ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। কারণ বাংলাদেশে বিএনপি নামে একটি রাজনৈতিক দল ছিল, যারা ধারাবাহিকভাবে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গেছে।”
জুলাই আন্দোলনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কথাও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আন্দোলন সফল হওয়ার পর কেউ বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক করতে চেয়েছেন, কেউ সংবিধান স্থগিত করে বিপ্লবী সরকার গঠনের কথা বলেছেন, আবার কেউ নতুন সংবিধান প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা বলেছেন।
তবে বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছি। এই সরকারের ভুল-ত্রুটি আছে, থাকবেও। তবে সেগুলো সংশোধন করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই।”
আলোচনা সভায় মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমিন এবং ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহ নিসতার জাহান কবীরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/৯/৭/২০২৬