বরিশাল ছাড়া দেশের সাত বিভাগে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সারাদেশেই কমবেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমিয়ে আনতে পারে।
আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, চলতি মাসের অবশিষ্ট সময়জুড়ে ঝড়-বৃষ্টির এমন প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আগামী কয়েকদিন পর তা ধীরে ধীরে কমে এলেও রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা বেশি থাকবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জারি করা বিশেষ সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রপাত ও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সকালের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, সকাল ৯টা থেকে রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে; রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এর মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারি বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানিয়েছে, রাঙামাটি, লক্ষ্মীপুর ও বান্দরবান জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাঙামাটিতে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ময়মনসিংহে ১৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
একই সময়ে সর্বোচ্চ ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে টাঙ্গাইলে। এছাড়া কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ৫৪, রংপুর ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৫১ মিলিমিটার এবং সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ঝড়-বৃষ্টি ও তাপমাত্রার ওঠানামায় পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ-যা আগামী কয়েকদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
সানা/আপ্র/২৭/৪/২০২৬