গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘স্যাড ফাউন্ডেশন’কে ১ কোটি টাকা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ। অর্থের তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠার পর গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি বক্তব্য দিয়ে তিনি এ দাবি করেন এবং অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
রিফাত জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে তাদের ৫ কোটি টাকার একটি চুক্তি হলেও সময় স্বল্পতার কারণে সাত দিনের প্রচারণার জন্য শেষ পর্যন্ত ১ কোটি টাকা দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, ওই অর্থ ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত মেনে ব্যয় করা হয়েছে এবং তালিকাভুক্ত অডিট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশার নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে গণভোট প্রচারের অর্থ গোপনের অভিযোগ তোলা হয়। এর পরপরই ব্যাখ্যা দেন রিফাত, যিনি সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ যেকোনো তদন্তকারী সংস্থা চাইলে তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র দেবেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
রিফাতের ভাষ্য অনুযায়ী, সারাদেশে গণভোট প্রচারের জন্য ‘ডোর টু ডোর’ কার্যক্রম, অনলাইন প্রচার, কনসার্ট, লিফলেট বিতরণ, ক্যারাভ্যান এবং ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগের পরিকল্পনা ছিল। এ জন্য প্রায় ১২ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিবন্ধনবিহীন সংগঠনকে অর্থায়ন না করায় ‘স্যাড ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংস্থা গঠন করা হয় বলে জানান তিনি। প্রথমে ১৫ দিনের প্রচার পরিকল্পনা থাকলেও সময়ের সীমাবদ্ধতায় তা এক সপ্তাহে সীমিত হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে রিফাত বলেন, কোটি টাকার অর্থ তছরুপের দাবি ‘হাস্যকর’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তার মতে, গণভোটকে বিতর্কিত করতেই এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
তিনি আরো দাবি করেন, ফাউন্ডেশন গঠনের শুরুতে সিনথিয়া জাহীনও যুক্ত ছিলেন এবং কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে পরে তিনি এ প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করেন রিফাত।
তিনি সংগঠনটিকে ‘সরকারের পকেট সংগঠন’ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি সবসময় ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান বজায় রাখা উচিত।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পরবর্তীতে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয়। সরকার পরিবর্তনের পর এর নেতৃত্ব থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠিত হলে সংগঠনটির অরাজনৈতিক চরিত্র ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৫/৪/২০২৬