গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মেনু

পালিত হবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’, ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:০৮ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০১:৫৩ এএম ২০২৬
পালিত হবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’, ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি
ছবি

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি -ছবি পিআইডি

জাতীয় দিবস পালনের তালিকায় আবার ফিরছে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’, ৭ নভেম্বর এ দিবসে সরকারি ছুটি থাকবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ৭ নভেম্বরকে পূর্বের মতো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতির দিবস হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি ‘ছুটি দিবস’ হবে, আগে যেরকম ছিল তাই হবে। তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, এটি ছিল এর আগে, এখন আবার ফেরত আনা হয়েছে। গত ১৬ বছর এটি করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এদিন সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়।

বৈঠকে ৬ জুলাইকে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্তও হয়েছে। তবে এটি ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হওয়ায় সেদিন সরকারি ছুটি থাকবে না, শুধু উদযাপন করা হবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান স্বপরিবারের নিহত হওয়ার পর সেনা প্রধানের দায়িত্ব আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনা বাহিনীতে একটি অভ্যুত্থান হয়, জিয়া হন গৃহবন্দি।

৭ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের আরেক সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়া। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে চলে আসেন তিনি।

দিনটিকে বিএনপি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস, জাসদ ‘সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ এবং আওয়ামী লীগ ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ পালন করে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় দিবসের তালিকায় রাখা হয়নি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’। চব্বিশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দিবসটি পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছিল বিএনপি।

কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের যে তালিকা করে গিয়েছিল, সেখানে এ দিবসটি ছিল না।

১১ মার্চ ছোটখাট কয়েকটি পরিবর্তন ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের তালিকা বহাল রেখে পরিপত্র জারি করে তারেক রহমানের বিএনপি সরকার। সে তালিকায়ও ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ ছিল না।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন ও পালনে জারি করা পরিপত্রে মোট ৮৯টি দিবস রাখা হয়েছে, এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণিতে ১৭টি, ‘খ’ শ্রেণিতে ৩৭টি এবং ‘গ’ শ্রেণিতে ৩৫টি দিবস থাকছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ধারা অনুসরণ করে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবসের তালিকায় ৫ অগাস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ এবং ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবসের তালিকায় ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর ইউনূস সরকার ৭ মার্চ, ১৫ আগস্টসহ যে আট জাতীয় দিবস বাতিল করেছিল, বিএনপি সরকার তার কোনোটি ফেরায়নি।

সৌরশক্তিতে ১০ হাজার মেগাওয়াটের পরিকল্পনা

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, বৈঠকে তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আলোচ্য ছিল বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক প্রকল্পে বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং এ খাতের প্রসার।

তিনি বলেন, আগামী ২০৩০ সালের ভেতরে সরকার শুধুমাত্র সোলার পাওয়ার দিয়ে ১০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি জমি ব্যবহার করা হবে জানিয়ে নাসিমুল গনি বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তারাও এতে যুক্ত হতে পারবেন।

তার ভাষায়, সরকারের অংশগ্রহণ ও সহায়তা থাকবে, তবে ‘বেসরকারি উদ্যোগেই হবে মূলত’।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ জন্য একটি কমিটি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের পর কয়েক দিনের মধ্যেই কমিটি কাজ শুরু করতে পারে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আইন ও নীতিমালাও দ্রুত করা হবে, যাতে অল্প সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো চালু করা যায়।

বিদ্যমান নীতিমালা কার্যকরভাবে কাজ না করায় সেগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে, বলেন নাসিমুল গনি।

তিনি বলেন, আগের কিছু ব্যবস্থা খুব ‘ফাংশনাল’ ছিল না, তাই পুরোটা আবার ‘রিভিউ’ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গ্রিডে ছোট ছোট সৌর প্রকল্পের বিদ্যুৎ দেওয়া, মিটারিং ব্যবস্থা ও সঞ্চালন সংযোগের মতো জটিলতা রয়েছে। সে কারণে বড় আকারের জমিভিত্তিক প্রকল্পের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বড় আকারের ‘চাঙ্ক অফ ল্যান্ড’ দেখা হয়েছে, যেখানে সরকার জমি দেবে এবং একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে বেসরকারি খাত প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

কোন এলাকার জমি অগ্রাধিকার পাবে, এমন প্রশ্নে নাসিমুল গনি বলেন, গভমেন্টের যেগুলা অ্যাভেইলেবল ল্যান্ড আছে সেগুলা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর আগের উদ্যোগ খুব একটা কার্যকর হয়নি বলেও স্বীকার করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, এটার সর্বশেষ অবস্থা খুব একটা ফাংশন হতে পারেনি। এর কারণ নীতিমালার ঘাটতি, বেসরকারি খাতকে আকৃষ্ট করতে না পারা বা অন্য কিছু হতে পারে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তবে শুধু সোলার নয়, বায়োগ্যাস ও উইন্ডমিল নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা বলেছেন তিনি। তবে ১০ হাজার মেগাওয়াটের যে লক্ষ্য, সেটি শুধু সৌরবিদ্যুতের জন্য।

সরকারি ব্যয় কত হতে পারে, এমন প্রশ্নে নির্দিষ্ট অঙ্ক বলতে না পারলেও নাসিমুল গনি বলেন, ১০ হাজার মেগাওয়াট ‘হিউজ এমাউন্ট’।

তার মতে, উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও বিতরণসহ মোট খরচ আরও বাড়তে পারে।

সোলার যন্ত্রপাতির দাম ভবিষ্যতে কমবে কি না? জবাবে তিনি বলেন, বড় আকারে প্রকল্প এগোলে স্থানীয় উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাজার ও বিনিয়োগের সুযোগ দেখলে দেশীয় উদ্যোক্তারাও উৎপাদনে আসতে পারেন।

সোলার যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্কসহ করসংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়েছে তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ জন্য সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিদের যুক্ত রেখে বিষয়টি আরও কার্যকর করার চেষ্টা হবে।

জ্বালানি সংকট কমেনি
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের তাৎক্ষণিক প্রভাব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না, এ প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংকট মোকাবেলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে, যেসব জায়গা থেকে জ্বালানি উধাও হয়ে যাচ্ছে সেগুলোও উদ্ধারের চেষ্টা হচ্ছে। তবে সংকট পুরোপুরি কমছে না বলে স্বীকার করে নাসিমুল গনি বলেন, প্রত্যেকে এটার মধ্যে আবার একটা ব্যবসা করার মনোবৃত্তি এসে গেছে।
সানা/আপ্র/১৭/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ
১৭ এপ্রিল ২০২৬

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনবদ্য...

যেসব অঞ্চলে ৪৫-৮০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে
১৬ এপ্রিল ২০২৬

যেসব অঞ্চলে ৪৫-৮০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

দেশের ১৪টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৪৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। এ সকল এলাকার নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক...

জাতীয় নেতাদের অবদান ভুললে ভবিষ্যৎ ইতিহাস ক্ষমা করবে না
১৬ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় নেতাদের অবদান ভুললে ভবিষ্যৎ ইতিহাস ক্ষমা করবে না

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা যদি হীন দলীয় স্বার্থে আমাদের ইতিহাসের জাতীয় নেতাদের ভূমিকাকে...

অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের  ভোগান্তি হয় : স্পিকার
১৬ এপ্রিল ২০২৬

অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের ভোগান্তি হয় : স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার (অন্তর্বর্তীকাল...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই