গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

বিনামূল্যে সিম কিনে মামলার আসামি, প্রতারণার শিকার বহু পরিবার

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:০১ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৪:১৮ এএম ২০২৬
বিনামূল্যে সিম কিনে মামলার আসামি, প্রতারণার শিকার বহু পরিবার
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ে বিনামূল্যে সিম ও রিচার্জের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে একটি চক্র। তাদের কাছ থেকে রবি ও এয়ারটেল সিম নেওয়ার পর এখন বিপাকে পড়েছে বহু পরিবার। অনেকে অজান্তেই বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সমস্যার সমাধান পেতে সংশ্লিষ্ট টেলিকম কোম্পানির দ্বারস্থ হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা, মোহাম্মদপুর ও চিলারং ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নারী ও গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের টার্গেট করে একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তারা এনআইডি কার্ড দিয়ে বিনামূল্যে একটি রবি বা এয়ারটেল সিম এবং সঙ্গে ১০৫ টাকা রিচার্জ থাকার লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে।

অভিযোগ রয়েছে, একটি সিম দেওয়ার কথা বললেও গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধন করে নেয় চক্রটি। ফলে যারা বিনামূল্যে সিম নিয়েছেন, তাদের অধিকাংশের এনআইডি কার্ডে অজান্তেই ১৫ থেকে ৩০টি পর্যন্ত অতিরিক্ত রবি ও এয়ারটেল নম্বর নিবন্ধিত হয়ে গেছে। এসব অতিরিক্ত সিম দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট সিমের নিবন্ধন যাদের নামে, তারাই আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ছেন। এতে অনেক নিরীহ মানুষ অজান্তেই মামলার আসামি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজা বলেন, আমার পরিবারও এই প্রতারণার ফাঁদে পড়েছে। আমার মা, ভাবি ও বোনকে বিনামূল্যে সিম ও রিচার্জের কথা বলে একটি সিম দেওয়া হয়েছিল। পরে আমরা জানতে পারি, একটি সিম নেওয়ার সুযোগে তাদের এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধন করা হয়েছে। আমার পরিবারের এক সদস্যের এনআইডিতে এখন ২৮টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা আছে। বিষয়টি জানার পর আমরা খুব আতঙ্কে আছি। আমাদের এলাকার অনেক প্রতিবেশীও একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে অজান্তেই বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে গেছেন। এতে করে আমরা সবাই খুব ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।

একই এলাকার নুর নাহার বেগম বলেন, আমি একটা সিম কিনেছিলাম। কিন্তু এখন আমার এনআইডিতে ২২টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা আছে। শুনছি অনেকেই মামলার আসামি হয়েছে। তাই খুব ভয় পাচ্ছি। রবি কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে অতিরিক্ত সব নম্বরের নিবন্ধন বাতিল করার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা বলছে এটি বাতিল করা সম্ভব নয়। এখন আমরা কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।

সাদিকুল নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার স্ত্রী একটি সিম কিনেছিল। কিছুদিন পর হঠাৎ একদিন বাসায় পুলিশ আসে। তারা জানায় আমার স্ত্রীর নামে একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। এ কারণে আমাদের ঢাকায় যেতে হয়েছে এবং অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখনো মামলার অবস্থা কী তা ঠিকভাবে জানি না।

ভুক্তভোগীরা সমস্যার সমাধানের আশায় রবি কাস্টমার কেয়ারে ছুটে গেলেও সেখান থেকে তেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। কাস্টমার কেয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিবন্ধিত সিমগুলো বাতিল করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তারা ঢাকা হেড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে এ বিষয়ে কাস্টমার কেয়ারের কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এনআইডি ব্যবহার করে একাধিক সিম রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ যদি এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য পুলিশের পক্ষে ভুক্তভোগীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। আর অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে রবি টেলিকম কোম্পানির কর্পোরেট কমিউনিকেশন অফিসার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমরা এর আগেও দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর এলাকা থেকেও পেয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখব এবং এই প্রতারণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে রবির কোনো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জড়িত আছেন কি না তা তদন্ত করা হবে।

তবে নিবন্ধিত সিম বাতিল না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন বাতিল না হওয়ার কোনো কারণ আমি দেখছি না। বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজখবর নেব।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা করা হবে।

এসি/১৪/০৩/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

রাষ্ট্রপতি ফখরুলের আহ্বানে ৯ নভেম্বর বসছে সংসদের চতুর্থ অধিবেশন
১৪ অক্টোবর ২০২৬

রাষ্ট্রপতি ফখরুলের আহ্বানে ৯ নভেম্বর বসছে সংসদের চতুর্থ অধিবেশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৯ নভেম...

সেগুনবাগিচার দেয়ালে রোকেয়া, জসীমউদ্দীন ও জীবনানন্দের প্রতিকৃতি
১৪ অক্টোবর ২০২৬

সেগুনবাগিচার দেয়ালে রোকেয়া, জসীমউদ্দীন ও জীবনানন্দের প্রতিকৃতি

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-সংলগ্ন দখলমুক্ত ফুটপাতের পাশের দেয়ালে নতুন করে যুক্ত...

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় নিহত ১৭ বাংলাদেশি
১৪ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় নিহত ১৭ বাংলাদেশি

চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২০ বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে য...

তিন অনুকরণীয় মানুষের জীবনসংগ্রাম শুনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
১৪ অক্টোবর ২০২৬

তিন অনুকরণীয় মানুষের জীবনসংগ্রাম শুনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজকল্যাণমূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের কথা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 21 ঘন্টা আগে