রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শিরিন বেগম (৪২) নামে এক প্রবাসী নারীকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ চার টুকরো করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মো. দুলালের বিরুদ্ধে। রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে ওই নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্বামীকে আটক করা হয়েছে।
নিহত শিরিন বেগম পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার রাজপাশা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত সোহরাব আলী। শিরিনের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জর্ডানে প্রবাসী হিসেবে বসবাস করছিলেন। ছেলের বিয়ে দেওয়ার জন্য তিন মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই তাঁর আবার জর্ডানে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক আতিকুল ইসলাম বলেন, রোববার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ মীর হাজিরবাগের মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলার পশ্চিম পাশের একটি ফ্ল্যাটে যায়। সেখানে রান্নাঘরে পলিথিন দিয়ে ঢাকা অবস্থায় শিরিন বেগমের চার টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই তাঁর স্বামী মো. দুলালকে আটক করা হয়।
আটক দুলালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে উপপরিদর্শক আতিকুল ইসলাম বলেন, পরকীয়াসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পারিবারিক কলহের জের ধরে রোববার রাতে দুলাল তাঁর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
নিহতের ভাই মো. যুবরাজ জানান, দুপুর ১টার দিকে তিনি জোহরের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর ভাগ্নে ফোন করে মাকে হত্যার খবর দেন। খবর পেয়ে তিনি থানায় যান।
যুবরাজ বলেন, বাড়ির মালিকের কাছে তিনি জানতে পেরেছেন, রোববার সন্ধ্যায় শিরিন ও দুলালের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এর আগেও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ হতো। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দুলাল তাঁর বোনকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে যুবরাজ বলেন, ঘর থেকে শব্দ শুনে বাড়ির মালিক তাঁদের ফ্ল্যাটের কাছে গিয়ে অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেন। কিন্তু প্রথমে দরজা খোলা হয়নি। পরে দরজা খুললে বাড়ির মালিক রাতে এত শব্দ হওয়ার কারণ জানতে চান। দুলাল কোনো উত্তর না দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁর সন্দেহ হয়। এরপর কৌশলে দুলালকে স্ত্রীকে ডেকে আনতে বলে তিনি তাঁকে ঘরের ভেতরে পাঠান। দুলাল ভেতরে গেলে বাড়ির মালিক বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর দেন।
কাঁদতে কাঁদতে যুবরাজ বলেন, তাঁর বোন দীর্ঘদিন জর্ডানে থাকতেন। ছেলের বিয়ের জন্য তিন মাস আগে ছুটিতে দেশে এসে ছেলের বিয়ে সম্পন্ন করেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর আবার জর্ডানে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি আরো জানান, দুলাল এর আগেও একটি বিয়ে করেছিলেন।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
সানা/আপ্র/১৩/১০/২০২৬