কারাবন্দী জীবনেও ঈদ আসে বিশেষ আয়োজন নিয়ে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দীদের জন্য উন্নত খাবার, ঈদের জামাত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বজনদের রান্না করে আনা খাবার খাওয়ার সুযোগের পাশাপাশি বন্দীরা একবার পাঁচ মিনিট স্বজনদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সুযোগ পাবেন।
আজ শনিবার (২১ মার্চ) দেশে ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে। এ উপলক্ষে কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের দিন সাধারণ বন্দীদের মতো কারাগারে থাকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত ও বিভাগপ্রাপ্ত বন্দীদেরও একই ধরনের খাবার দেওয়া হবে। সকালে সব বন্দীকে দেওয়া হবে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি। দুপুরে থাকবে পোলাও, গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, সালাদ, মিষ্টি ও পান-সুপারি। মুসলমান ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য থাকবে খাসির মাংস। রাতে দেওয়া হবে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উন্নত মানের খাবারের পাশাপাশি বন্দীদের স্বজনদের আনা খাবারও খেতে দেওয়া হবে। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন স্বজনেরা কারাগারে খাবার দিতে পারবেন।
কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে হওয়া মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২১৫ জন কারাগারে আছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮৩ জন বিভাগপ্রাপ্ত। এঁদের মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ৩৭ জন, সাবেক সংসদ সদস্য ৪৮ জন এবং অন্যান্য পেশার ৯৮ জন। বিভাগ না পেলেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে কারাগারে আছেন আরো ৩২ জন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো তাঁদের ঈদ কাটবে কারাগারের ভেতরে।
কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারা বছর সাধারণ বন্দীদের সকালে দেওয়া হয় হালুয়া, রুটি ও ডিম। দুপুরে থাকে ভাত, ডাল ও সবজি। রাতে দেওয়া হয় ভাত, ডাল, মাছ বা গরুর মাংস। আর বিভাগপ্রাপ্ত বন্দীদের ক্ষেত্রে তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা রান্নার ব্যবস্থা করা হয়।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক, উন্নয়ন ও গণমাধ্যম, জান্নাত-উল ফরহাদ ১৭ মার্চ প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের দিন কারাগারগুলোতে বন্দীদের জন্য ঈদের নামাজের জামাত হবে। উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের জন্য এবার মাথাপিছু আড়াই শ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ঈদের পরদিন যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কারাগারের ভেতরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে।
১৬ মার্চ সারা দেশের ৭৪টি কারাগারে মোট বন্দীর সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার। এর মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আছেন সাড়ে ৯ হাজার।
১৭ মার্চ যোগাযোগ করা হলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কারাগারের বাইরে কর্মরত কারা কর্মচারীদের মসজিদের একজন ইমাম ঈদের দিন সকালে কারাগারের ভেতরে বন্দীদের ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন।
তিনি আরো জানান, নামাজের পর বন্দীদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বন্দীদের মধ্যেই যাঁরা শিল্পী আছেন, তাঁরা সেখানে গান পরিবেশন করবেন। ঈদের পরদিন বন্দীদের মধ্য থেকে বাছাই করে প্রীতি ফুটবল ম্যাচও আয়োজন করা হবে।
ঈদের দিন থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে বন্দীরা একবার পাঁচ মিনিট করে স্বজনদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে পারবেন। এই তিন দিনের মধ্যে স্বজনেরা একবার বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। সাধারণত ১৫ দিন পরপর বন্দীরা স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।
ফারুক আহমেদ জানান, বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের জন্যও কারা কর্তৃপক্ষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছে। কারাগারের বাইরে তাঁদের চকলেট ও জুস দেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/২১/৩/২০২৬