বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিএনপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ২০০১-২০০৬ সময়কার লোডশেডিং সংকটের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অন্যদিকে জনগণকে ভুতুড়ে বিল দিতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি সরকার মাত্র পাঁচ মাসেই লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে অতীতের রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে।
তিনি বলেন, “আমরা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের ঘটনা জানি। লোডশেডিং কীভাবে হয়েছিল, কীভাবে খাম্বা ছিল কিন্তু বিদ্যুৎ ছিল না—একই রকম দেশ আমরা আবারও দেখতে পাচ্ছি।”
নাহিদ ইসলাম বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য সরকারের অপরিকল্পনা, লুটপাট ও দুর্নীতিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বলা হয়েছিল নির্বাচিত সরকার এলে দেশের সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বেড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে টেন্ডারবাজি, লুটপাট ও দুর্নীতি চলছে এবং সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে আলোচনা রয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর ভাষ্য, তেল, গ্যাস, চাল ও সবজিসহ সবকিছুর দাম বাড়ছে, কিন্তু সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যে মনে হয় দেশে কোনো সমস্যা নেই।
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি। তিনি এ ঘটনাকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বলে মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেশের তেল আমদানি, বাজারজাতকরণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে সরকার জনগণের পরিবর্তে “মাফিয়া ব্যবসায়ীদের সরকারে” পরিণত হয়েছে।
সমাবেশে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সরকারি সুবিধা সাধারণ মানুষের পরিবর্তে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের হাতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে জনগণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে “লাল কার্ড” দেখাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভারত ও সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গ: বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম ভারতের সমালোচনাও করেন। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দিয়ে ভারত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, তারেক রহমানের হাতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকতে পারছে না।” ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য আপস বা সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এমন হলে জনগণ জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে নতুন করে মূল্যায়ন করবে।
সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসহাক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/১৪/৮/২০২৬