বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতের পর দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন। দায়িত্বের শেষ সময়ে দেওয়া পৃথক পোস্টে তারা তাদের মেয়াদের নানা অভিজ্ঞতা, সাফল্য-ব্যর্থতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেছেন। সেখানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘মব সংস্কৃতি’ মোকাবিলার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ পাঁচ নেতা, যাঁরা সংগঠনে ‘সুপার ফাইভ’ নামে পরিচিত। রাকিবুল ও নাছির ২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। প্রায় আড়াই বছর দায়িত্ব পালনের পর তাদের কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
সাক্ষাতের পর বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ পোস্ট দেন রাকিবুল ইসলাম। দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বিএনপির সদ্যবিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
নিজের মেয়াদের অন্যতম সাফল্য হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে ছাত্রদলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন রাকিবুল। তার ভাষ্য, ওই সময় ছাত্রদলের অসংখ্য নেতা-কর্মী ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরের পরিস্থিতির কথাও স্মরণ করেছেন ছাত্রদল সভাপতি। তিনি লিখেছেন, ওই সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘শত শত মব’ মোকাবিলা করতে হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক বুলিং উপেক্ষা করে সংগঠনকে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে।
ক্যাম্পাসে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠায় নিজের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে রাকিবুল দাবি করেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কারণে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন। আর্থিক সংকটের মধ্যেও সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদায়ী পোস্টের শেষাংশে নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে রাকিবুল বলেন, তিনি নতুন জীবন শুরু করতে চান এবং নিজেকে আরো পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। একই সঙ্গে ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে সবাই গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দুই হাজারের বেশি কমিটি গঠনের দাবি: শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিদায়ী পোস্ট দেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন। তিনি লেখেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের শেষ দিনে দীর্ঘ, কঠিন, ঘটনাবহুল ও গৌরবের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে।
নাছিরও তার মেয়াদের সবচেয়ে কঠিন সময় হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেন। ওই সময়ে নেতা-কর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখা, তাদের সাহস জোগানো এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আবদুল কাদেরের সঙ্গে কাজ করার কথাও স্মরণ করেছেন নাছির। তার দাবি, আন্দোলনের সময়ে তারা ছাত্রদলকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছিলেন। পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছাত্রদলের অবদান সব সময় সমানভাবে স্বীকৃত না হলেও সংকটের সময়ে পাওয়া সহযোগিতার জন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘মব সংস্কৃতি’কে নিজেদের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছেন নাছির। তার ভাষ্য, নানা প্রচারণা, অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও সংগঠনকে সক্রিয় রাখা এবং নেতা-কর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা সহজ ছিল না।
দীর্ঘ দায়িত্বকালে দুই হাজারের বেশি সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক। এটিকে কোনো ব্যক্তির একক কৃতিত্ব নয়, বরং সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
বিদায়বেলায় নাছির লিখেছেন, দায়িত্ব থেকে বিদায় নিলেও সম্পর্ক, সংগ্রাম ও আদর্শ থেকে তার বিদায় নেই। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে ছাত্রদল আরো শক্তিশালী হবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৪/৮/২০২৬