রাজধানী ঢাকার প্রতি নাগরিকদের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র্যালি’। প্রায় ৩০০ নাগরিকের অংশগ্রহণে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ঐতিহাসিক ঢাকা গেট থেকে শুরু হওয়া এ শোভাযাত্রা নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয়। রাজধানী হিসেবে ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি ও ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে গত ১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ডিএসসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ঐতিহাসিক ঢাকা গেট থেকে সাইকেল শোভাযাত্রা শুরু হয়। পরে এটি টিএসসি, শাহবাগ, বাটা সিগন্যাল, সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, আজিমপুর, ঢাকেশ্বরী মন্দির, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, বকশীবাজার মোড়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সড়ক ও বঙ্গবাজার মোড় হয়ে নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া প্রায় ৩০০ সাইক্লিস্টকে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পদক ও সনদ দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, এমন একটি ঢাকা প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন। তরুণেরা যাতে সাইকেল নিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ পান, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নগরীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিচিতি ও সম্পৃক্ততার অভাবে অনেকের মধ্যে ঢাকার প্রতি কাঙ্ক্ষিত মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক চেতনা গড়ে ওঠেনি। এর প্রভাব পড়ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে।
ইতিহাস অনুযায়ী, মুঘল সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকাকে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করেন। সে হিসাবে ২০২৬ সালে রাজধানী হিসেবে ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্ণ হচ্ছে। তবে বিভিন্ন ইতিহাসবিদ ও সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় এই নগরীর পত্তন আরো প্রাচীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আধুনিক নগর প্রশাসনের সূচনা হয়। এ ঐতিহাসিক ভিত্তির স্মরণে প্রতিবছর ১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ পালন করা হয়।
‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসব চলবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। উৎসবের পরবর্তী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শনিবার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে বুড়িগঙ্গা মঞ্চ পর্যন্ত ‘ঢাকা হেরিটেজ রান’।
১৬ থেকে ২২ আগস্ট সূত্রাপুরের জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত মঞ্চনাটক পরিবেশিত হবে। ২১ আগস্ট খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাট পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ এবং সদরঘাট থেকে শত বছরের পুরোনো বিশেষ ঐতিহ্যবাহী নৌভ্রমণের আয়োজন থাকবে।
২১ থেকে ৩০ আগস্ট ঢাকার বিপণিবিতানে ‘দ্য গ্রেট ঢাকা সেল’ এবং নাগরিকদের আবেগ ও ভালোবাসার চিঠি নিয়ে ‘লাভ লেটার টু ঢাকা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ২২ আগস্ট মধুমিতা সিনেমা হলে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।
২৩ থেকে ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ টেলিভিশনে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরোনো নাটক ও অন্যান্য অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। ২৪ আগস্ট উত্তর ধানমন্ডির জয়নুল হক শিকদার মহিলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ‘পাখির চোখে হৃদয়ে ঢাকা উৎসব’ প্রদর্শনের আয়োজন রয়েছে।
২৮ আগস্ট লক্ষ্মীবাজার থেকে নগর ভবন পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ভিনটেজ গাড়ি ও পালকিসহ ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে।
২৯ আগস্ট বিকেল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে ‘পরিচ্ছন্ন নগর, সবুজ নগর’ বাস্তবায়নে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করা হবে।
৩০ আগস্ট লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, ‘ঢাকা আড্ডা’ এবং সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালিসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। ১ সেপ্টেম্বর শিল্পকলা একাডেমিতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও উন্মুক্ত শিল্পশিবির অনুষ্ঠিত হবে।
৫ সেপ্টেম্বর আলমগঞ্জ জেটিতে পুরান ঢাকার পঞ্চায়েতি আড্ডার মধ্য দিয়ে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের সমাপ্তি হবে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৪/৮/২০২৬