পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশে দুটি ভবনের মাঝখানে সরু এক ফালি জমিতে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী এক বাড়ি। নাম ‘কেরেট হাউস’। বাড়িটি এতাই সরু যে এর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ৭২ সেন্টিমিটার বা ২৮ ইঞ্চি অর্থাৎ প্রায় দেড় হাত। সবচেয়ে চওড়া অংশের প্রস্থ ১২২ সেন্টিমিটার বা ৪৮ ইঞ্চি। ফলে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দুহাত প্রসারিত করলেই বাড়িটির সবচেয়ে চওড়া অংশের দুই পাশের দেয়াল ছুঁতে পারেন। খবর এনডিটিভির।
মাত্র ১৫০ বর্গফুট জায়গার ওপর নির্মিত হলেও বাড়িটিতে রয়েছে শোবার ঘর, রান্নাঘর, বসার জায়গা, কাজের স্থান, শৌচাগার ও আলাদা গোসলখানা। জায়গার প্রতিটি সেন্টিমিটার কাজে লাগিয়ে তিনটি স্তরে এসব ব্যবস্থার সমন্বয় করা হয়েছে। এ কারণেই ব্যতিক্রমী স্থাপনাটি অনলাইনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
কেরেট হাউসের নকশা করেছেন পোলিশ স্থপতি ইয়াকুব শেজেসনি। এটি একই সঙ্গে শিল্পকর্ম ও বসবাসের জায়গা হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নির্মিত একটি সমবায় আবাসন ভবন এবং যুদ্ধের আগে নির্মিত সাবেক একটি ইহুদি আবাসিক ভবনের মাঝখানে থাকা প্রায় ১৫০ বর্গফুট অব্যবহৃত জায়গাকে কাজে লাগিয়েই তৈরি করা হয়েছে বাড়িটি।
বাড়িটির প্রবেশপথ নিচের স্তরে। সেখান থেকে ওপরের স্তরে রয়েছে শৌচাগার, ছোট রান্নাঘর, বসার জায়গা ও কাজের স্থান। এরপর একটি মই বেয়ে আরো ওপরে উঠতে হয়। ওপরের স্তরে রয়েছে শোবার জায়গা। বিছানার মাথার কাছে রয়েছে বড় একটি জানালা। আয়তন অত্যন্ত ছোট হলেও নকশার কারণে বাড়িটির ভেতরে দিনের আলোর অভাব হয় না।
প্রধান সড়ক থেকে সরাসরি বাড়িটিতে প্রবেশের সুযোগ নেই। একটি সরু গলি দিয়ে যেতে হয় সেখানে। এরপর ইস্পাতের সিঁড়ি বেয়ে ভবনে প্রবেশ করতে হয়। অস্বাভাবিক আকৃতি ও অবস্থানের কারণে বাড়িটিকে সাধারণ আবাসিক ভবন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি স্থানীয় নগর কর্তৃপক্ষ। এটিকে বরং একটি শিল্পস্থাপনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি লেখক এতগার কেরেটের জন্য বাড়িটি তৈরি করা হয়েছিল। তিনি এটিকে মূলত কাজের জায়গা এবং মাঝেমধ্যে থাকার স্থান হিসেবে ব্যবহার করেন। অর্থাৎ প্রচলিত অর্থে এটি পূর্ণকালীন বসবাসের বাড়ি না হলেও প্রয়োজনীয় জীবনযাপনের প্রায় সব ব্যবস্থাই রয়েছে এতে।
সম্প্রতি ভারতীয় প্রভাবক ঋষভ ওয়াধাওয়া কেরেট হাউস ঘুরে দেখেন। পরে তিনি বাড়িটির ভেতরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওতে অতি অল্প জায়গার মধ্যে বিশেষ নকশার মাধ্যমে কীভাবে বসবাস, রান্না, কাজ ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা তুলে ধরা হয়। এরপর বাড়িটি নিয়ে নতুন করে অনলাইনে আলোচনা শুরু হয়।
‘হাউস’ সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর কাজের পর ২০১২ সালের অক্টোবরে কেরেট হাউসের নির্মাণকাজ শেষ হয়। নগরের দুটি ভবনের মাঝখানে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা অত্যন্ত সরু ও অব্যবহৃত জায়গাকে কীভাবে সৃজনশীল নকশার মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য স্থাপনায় রূপ দেওয়া যায়, কেরেট হাউস তারই এক অনন্য উদাহরণ। আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও স্থাপত্যের ভাবনায় এটি যেন বলে—জায়গার সীমাবদ্ধতা সব সময় সম্ভাবনার সীমাবদ্ধতা নয়।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৮/৯/২০২৬