প্রশাসনের উচ্চমার্গে রদবদল ও যোগ্য নেতৃত্বের অন্তর্ভুক্তি সর্বদা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ অধিশাখার প্রশাসনিক দক্ষতা পরিচালনায় নিবেদিত যুগ্মসচিব মো. জসিম উদ্দিন (পরিচিতি নং ১৫৬৪৫) সংক্রান্ত একটি সুসংবাদ প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ পদে স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন এই দূরদর্শী আমলা। ইতিপূর্বেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি গোপনীয় নথিপত্র প্রস্তুতক্রমে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক অনুমোদনের উদ্দেশ্যে নীতি-নির্ধারণী সারণিতে পেশ করেছে। এই রাজকীয় অর্জনের নেপথ্যে ফুটে উঠছে এক বিরল সংযোগের আখ্যান। তার সুযোগ্য সহধর্মিণী নুরজাহান খানম শান্তা ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ হিসেবে দায়িত্ব পালনে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রেখেছেন। একই পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ দুই জ্যেষ্ঠ আমলা দেশের শাসনযন্ত্রের সর্বোচ্চ শিখরে আসীন হওয়ার ঘটনা বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ।
জানা গেছে, বিসিএস চব্বিশতম ব্যাচের এই মেধাবী কর্মকর্তাদ্বয় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট হতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তাঙ্গনে বিদ্যাচর্চার দিনগুলোতে তারা মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক উন্নয়নের যে গভীর পাঠ গ্রহণ করেছিলেন, তা পরবর্তীতে কর্মজীবনে রাষ্ট্রীয় সেবায় অনন্য অবদান রাখতে সহায়তা করেছে। নুরজাহান খানম শামসুন্নাহার হলের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থেকে সাবেক ছাত্রদল নেত্রী পদে দায়িত্ব পালন করে দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন।
ভৌগোলিক দিক দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র সুগভীর। মো. জসিম উদ্দিনের আদি নিবাস নদীঘেরা দ্বীপজেলা ভোলায়, অপরদিকে তার সহধর্মিণীর শিকড় কীর্তনখোলা তীরের ঐতিহ্যবাহী বরিশালে। উপকূলীয় এই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দুই প্রশাসনিক অভিভাবক নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রী ভবনে প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এক নতুন ইতিহাস রচনার পথে অগ্রসর হচ্ছেন।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবের দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দূরদর্শিতাপূর্ণ। এ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য জসিম উদ্দিনের মতো প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে নির্বাচন দেশের সার্বিক শাসনব্যবস্থায় অধিকতর শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা আনবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়ন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সাধন এবং সার্বিক সচিবালয় পরিচালনায় তাদের এই যুগ্ম ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আমলাতন্ত্রের নীতি-নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব ও সততার মিশেলে এই দম্পতির অনন্য যাত্রা উদীয়মান কর্মকর্তাদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে খুব শিগগিরই নতুন এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব অর্পণের মাধ্যমে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় এক নতুন ইতিবাচক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী পদগুলোতে দীর্ঘদিনের দক্ষতা, নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা বিবেচনা করেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই পদায়নের প্রাথমিক নকশা রূপায়ণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এমন দক্ষ ও অভিজ্ঞ আমলাদের উপস্থিতি দাপ্তরিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তাই চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারির প্রাক্কালে এখন পুরো আমলাতন্ত্রের চোখ প্রধানমন্ত্রীর সেই বহু প্রতীক্ষিত সিদ্ধান্তের দিকে- যা দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
কেএমএএ/আপ্র/২২.০৮.২০২৬