যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় থাকলেও ইরান এখন ‘শক্তিশালী অবস্থানে’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) চিকিৎসকদের এক সমাবেশে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান এখন শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে রয়েছে। তাই এই মুহূর্তেই যুদ্ধের অবসান ঘটানো দেশটির জন্য ভালো হবে। তিনি দাবি করেন, বিশ্ব ইরানের বিজয় স্বীকার করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করেছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেজেশকিয়ানের ক্ষমতা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কর্তৃত্বের অধীন। এরই মধ্যে পার্লামেন্টের কট্টরপন্থি সমালোচকদের বিরোধিতার মধ্যেও জুনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। সমালোচকেরা অভিযোগ করেছিলেন, ওই সমঝোতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন ছাড় দিয়েছে।
অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পেজেশকিয়ান বলেন, সমঝোতার এমন কোনো ধারা দেখানো যাবে না, যেটিকে আত্মসমর্পণ হিসেবে গণ্য করা যায়। বরং এতে সব প্রতিশ্রুতি অপর পক্ষের জন্য প্রযোজ্য।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। এরপর একাধিকবার যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হলেও কার্যত যুদ্ধের অবসান হয়নি। সর্বশেষ ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের পর স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরু হলেও তা থমকে যায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের হুমকির জবাবে ইরান ‘বিধ্বংসী’ পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, নতুন কোনো হুমকি দেখা দিলে ইরানের জবাব হবে ব্যাপক ও চূড়ান্ত। স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার ক্ষেত্রে ইরানের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ও সমঝোতার অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়ে শুক্রবার ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ফোনে আলোচনা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও তাঁদের আলোচনায় আসে।
গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের একটি অংশ ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজের বহর গোপনে পরিচালনা ও সেগুলোর নিরাপত্তা দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। এতে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আলোচনায় বসার আগ্রহ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প আরো বলেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পুরো অঞ্চলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইরান চুক্তি করতে চাইলেও ‘সঠিক চুক্তি’ করার জন্য দেশটি এখনো প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, কোনো দেশ ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা করলে তাদেরও অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত সোমবার জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বেসেন্ট।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২২/৮/২০২৬