ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় কার্যকর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে দেশের সব হাসপাতালকে নিরাপদ কর্মস্থলে পরিণত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। কর্মসূচিতে হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক চিকিৎসক অংশ নেন।
মানববন্ধনে ঢাকা মেডিকেলের নাক, কান ও গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আজিজুল হক মানিক বলেন, চিকিৎসকেরা রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্যই কাজ করেন। কিন্তু নানা কারণে চিকিৎসাসেবার সব ধরনের সমস্যার দায় চিকিৎসকদের ওপর চাপানো হচ্ছে। ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে চিকিৎসকদের মারধর করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঢাকা মেডিকেলের উপাধ্যক্ষ মুসাররাত সুলতানা সুমী বলেন, চিকিৎসকদের এখন রোগীর পাশে থাকার কথা থাকলেও নিরাপত্তার দাবিতে তাঁদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। ভুল চিকিৎসার অভিযোগে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম ও সামাজিক পরিসরে বিচার-বিশ্লেষণহীন প্রচার চালানো দুঃখজনক। কোনো চিকিৎসাসেবায় ত্রুটি দেখা দিলে আগে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন; তদন্তের আগেই সেটিকে ভুল চিকিৎসা হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়।
গত ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরের একটি বেসরকারি রোগনির্ণয়কেন্দ্রের চেম্বার থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় ওঠার পর হামলার শিকার হন ৫৫ বছর বয়সী অধ্যাপক আসাদুর রহমান। রাত ১১টার দিকে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তাঁর মাথা, মুখ ও চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
অধ্যাপক আসাদুর রহমান জানিয়েছেন, হামলার ১১ দিন আগে একটি অপরিচিত মুঠোফোন নম্বর থেকে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দেওয়ার জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। সেই সময়সীমা পার হওয়ার দুই দিন পর তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
চিকিৎসকদের সংগঠন ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসকদের হুমকি, হামলা ও মারধর করছে। এর উদ্দেশ্য চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নষ্ট করা এবং দেশের চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেওয়া। এমন পরিস্থিতিতে রোগীরা যেন চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী দেশে যেতে বাধ্য না হন, সে জন্য অবিলম্বে চিকিৎসকদের ওপর নিপীড়নের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার যখন জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছে, তখন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর গুপ্ত হামলা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা দেশের চিকিৎসাসেবায় কৃত্রিম আস্থার সংকট তৈরির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।
মানববন্ধনে ঢাকা মেডিকেলের সার্জারি বিভাগের আরএস রাশেক আলী অভি, গাইনি বিভাগের অধ্যাপক সুমনা রহমান, অধ্যাপক ইন্দ্রজিত ভট্টাচার্যসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/২২/৮/২০২৬