সাতক্ষীরার বহুল আলোচিত কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান ও তাঁর অন্যতম সহযোগী অমিত হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে কালিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর থানা, কালিগঞ্জ থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।
তবে আসামিদের গ্রেফতারের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের একটি মন্তব্যকে ঘিরে স্থানীয় জনসাধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, আসামিরা পেশাদার সন্ত্রাসী বা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নয়, ‘এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’।
ওসির এ মন্তব্যের পর সুশীল সমাজ, সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের প্রশ্ন, ঘটনাটি সুপরিকল্পিত কিংবা আকস্মিক - যে ধরনেরই হোক, ধারালো অস্ত্র ও ছুরির ব্যবহার থাকা একটি হত্যাকাণ্ডকে কীভাবে শুধু ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এক নেটিজেন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যে লেখেন, ‘ঘটনাটি যদি এতই অনাকাঙ্ক্ষিত হয়, তবে আসামিদের হয়রানি না করে জামিন দিয়ে দেওয়া হোক, যেন মনে হচ্ছে ছেলেটি নিজেই কোনোভাবে খুন হয়ে গেছে!’ স্থানীয়দের কেউ কেউ ওসির বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সংবেদনহীন বলেও মন্তব্য করেন।
এদিকে বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে অসন্তোষ ও বিতর্ক তৈরি হলে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ব্যাখ্যামূলক একটি পোস্ট দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় সাতক্ষীরা সদর থানাবাসী। কোনো হত্যাকাণ্ডই কাঙ্ক্ষিত নয়। আমি সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই “অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা” শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম। কিন্তু আমার কথায় আপনারা অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন, কারণ কেউ কেউ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এর জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
ওসির ব্যাখ্যা ও দুঃখ প্রকাশের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ তাঁর আত্মসমালোচনা ও ভুল স্বীকারের মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও অনেকে মনে করছেন, জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুতর অপরাধের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো সতর্ক ও দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রত্যাশিত ছিল।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতার করা আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তাঁদের আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
সানা/আপ্র/৭/১০/২০২৬