চট্টগ্রাম বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ছবি-ভিডিও ধারণ, স্কেচ প্রণয়ন এবং দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশ ও প্রচার থেকেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং জাতীয় অর্থনীতি, আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা বিধি অনুসরণকারী বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণির কেপিআই। ফলে বন্দরের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ১২ ধারা অনুযায়ী বন্দরের সুষ্ঠু পরিচালনা ও সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বন্দর সীমানার অন্তর্ভুক্ত সব স্থান ও স্থাপনা সংরক্ষিত বন্দর এলাকা হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল স্থান, তথ্য, নকশা, ছবি বা অন্যান্য উপাত্তের অননুমোদিত ধারণ, প্রকাশ বা প্রচার আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে।
সংবেদনশীল স্থাপনার তথ্য সংগ্রহেও নিষেধাজ্ঞা: নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস ও পরিচালনাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ বা প্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জাহাজ ও পণ্য ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার অনুমতিবিহীন ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, স্কেচ করা বা যেকোনো ধরনের দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
কেপিআই সংরক্ষিত এলাকা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনুমতিবিহীন কার্যক্রম কঠোরভাবে পরিহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বন্দর ব্যবহারকারী সবাইকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অননুমোদিত তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের মাধ্যমে বন্দর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন, নিরাপত্তা বিধিমালা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/৭/১০/২০২৬