গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

বিনামূল্যে খতনা করিয়ে অর্ধশত শিশু অসুস্থ, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১৬ পিএম, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০২:০৪ এএম ২০২৬
বিনামূল্যে খতনা করিয়ে অর্ধশত শিশু অসুস্থ, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ
ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা করানোর দুই দিনের মধ্যে অন্তত ৫০ শিশুর ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ দেখা দিয়েছে -ছবি সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা করানোর দুই দিনের মধ্যে অন্তত ৫০ শিশুর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণ দেখা দিয়েছে। অসুস্থ শিশুদের নিয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালে ছুটেছেন স্বজনরা। এর মধ্যে মো. ফয়সাল ও আইনুল ইসলাম নামে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের টেকনাফে রেফার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দ্বীপজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এমবিবিএস চিকিৎসক মো. আব্দুর রহিম রিফাতের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল ওই কর্মসূচিতে সেন্টমার্টিনের ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করায়। পরে শিশুদের বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়।

সেন্টমার্টিন হাসপাতাল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খতনা করানো ৫০ শিশু সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের মধ্যে মো. ফয়সাল ও আইনুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের টেকনাফে রেফার করা হয়।

সেন্টমার্টিন হাসপাতালের উপসহকারী কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খতনা করানো ৫০ শিশু চিকিৎসা নিতে এসেছে। অনেকের ইনফেকশন হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুজন শিশুর অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় তাদের টেকনাফে রেফার করা হয়েছে।’

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের স্বজনেরা জানান, খতনা করানোর পর থেকেই শিশুদের ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পুঁজ ও সংক্রমণের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে কোনো কোনো শিশুর ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হন স্বজনেরা।

দ্বীপের বাসিন্দা কবির আহমেদ বলেন, ‘দুই দিন আগে ওই চিকিৎসক দলের কাছে আমার ছেলে আইনুল ইসলামকে (৯) খতনা করিয়েছিলাম। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ওষুধও দিয়েছি। এরপর ছেলের এমন অবস্থা দেখে খুব চিন্তিত। ধারণা করছি, হয়তো ভুল চিকিৎসা হয়েছে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে টেকনাফে রেফার করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ট্রলার না পাওয়ায় ছেলেকে টেকনাফের হাসপাতালে নিতে পারছি না।’

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, খতনা করানোর সময় স্বাস্থ্যবিধি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সতর্কতা যথাযথভাবে মানা হয়নি। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশুর খতনা করানোর কারণে চিকিৎসাসেবায় অবহেলা হয়ে থাকতে পারে বলেও তারা অভিযোগ করেন। তবে শিশুদের সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণের সুনির্দিষ্ট কারণ চিকিৎসাগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘একটি চিকিৎসক দল বিনামূল্যে ২১০ শিশুকে খতনা করায়। এর দুই দিন পর কিছু শিশুর রক্তক্ষরণ দেখা দিয়েছে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে কী কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা আমার জানা নেই।’

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. এনামুল হক বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে একটি চিকিৎসক দল দুই শতাধিক শিশুকে খতনা করেছে। এর মধ্যে ৫০ শিশু সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে চিকিৎসক দলের দ্বীপে চিকিৎসাসেবা শিবির পরিচালনার বিষয়ে আমাদের কেউ অবগত করেনি।’

এ বিষয়ে চিকিৎসক দলের প্রধান মো. আব্দুর রহিম রিফাতের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

দ্বীপের বাসিন্দা শিক্ষক আয়াছ উদ্দিন কাজল বলেন, ‘খতনা করানোর পর অর্ধশতাধিক শিশু রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। কারণ, দ্বীপের অধিকাংশ পরিবারই অসচ্ছল। কোনো শিশুর বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিলে তাদের উন্নত চিকিৎসা করানো কঠিন হয়ে পড়বে। তাই শিশুদের অসুস্থতার কারণ কী এবং চিকিৎসায় কোনো ভুল বা অবহেলা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘খতনা করানোর পর বেশ কিছু শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কথা শুনেছি। আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি। ঘটনায় জড়িত চিকিৎসক দলের গাফিলতি পাওয়া গেলে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়রা বলছেন, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও খতনা কর্মসূচির মতো উদ্যোগে বিপুলসংখ্যক শিশুকে একসঙ্গে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি, জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম এবং চিকিৎসা-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এখানে মূল শিরোনামটি আরো সংবাদকেন্দ্রিক করা হয়েছে - একই সঙ্গে **৫০ শিশুর অসুস্থতা, সংক্রমণ-রক্তক্ষরণ এবং ভুল চিকিৎসার অভিযোগ**- এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পাঠকের কাছে স্পষ্ট থাকে।
সানা/আপ্র/৭/১০/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ওসির ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’ মন্তব্যে তোলপাড়, পরে ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ
০৭ অক্টোবর ২০২৬

ওসির ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’ মন্তব্যে তোলপাড়, পরে ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ

সাতক্ষীরার বহুল আলোচিত কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান ও তাঁর অন্যতম সহযোগী...

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক সম্মাননা পেলেন কচাকাটার ড. আব্দুর রহিম
০৭ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক সম্মাননা পেলেন কচাকাটার ড. আব্দুর রহিম

মোঃ মাইদুল ইসলাম, নাগেশ্বরী প্রতিনিধি: শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য অবদান ও দীর্ঘদিনের একাডেমিক কর্মকাণ্ডের...

নোয়াখালীর নতুন গ্যাসকূপে মিলেছে গ্যাস, উৎপাদনের আশাবাদ
০৭ অক্টোবর ২০২৬

নোয়াখালীর নতুন গ্যাসকূপে মিলেছে গ্যাস, উৎপাদনের আশাবাদ

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সুন্দলপুর-৪ গ্যাসকূপে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর)...

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, ক্ষোভ
০৭ অক্টোবর ২০২৬

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, ক্ষোভ

ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই