ইন্টারনেটে প্রকাশিত নতুন ওয়েব পেজের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি কনটেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে তৈরি হচ্ছে। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে প্রকাশিত প্রায় পাঁচ লাখ ইংরেজি ওয়েব পেজের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি করা হয়েছে। এসব লেখা পরীক্ষা করতে ‘ওপেন প্যানগ্রাম’ নামের একটি এআই শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন গবেষকেরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে প্রকাশিত সব ওয়েব পেজের প্রায় ১০ শতাংশে এআই ব্যবহারের সুস্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে। তবে চ্যাটজিপিটি চালুর পর প্রকাশিত ওয়েব পেজগুলো আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করলে অন্তত ৩৫ শতাংশ লেখায় এআইয়ের ব্যবহারের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
গবেষকেরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, এআই শনাক্তকারী স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জাম সব সময় শতভাগ নির্ভুল নয়। এসব সরঞ্জাম কখনো মানুষের লেখা এআইয়ের তৈরি বলে শনাক্ত করতে পারে, আবার এআইয়ের লেখা মানুষের লেখা হিসেবেও চিহ্নিত করতে পারে। তবে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এআই ব্যবহারের সামগ্রিক প্রবণতা স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় ওয়েবের লেখায় এআইয়ের ব্যবহারের কিছু ভাষাগত ও বিরামচিহ্নগত পরিবর্তনও চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে এম-ড্যাশ ব্যবহারের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অক্সফোর্ড কমার ব্যবহার বেড়েছে ৬৩ শতাংশ। এ ছাড়া চ্যাটবটগুলোতে বেশি ব্যবহৃত কিছু নির্দিষ্ট শব্দের ব্যবহারও দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, মানুষের লেখাতেও এসব শব্দ বা বিরামচিহ্ন স্বাভাবিকভাবেই থাকতে পারে। তবে বিভিন্ন সূক্ষ্ম ভাষাগত ও পরিসংখ্যানগত বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করায় ওয়েব কনটেন্টে এআই ব্যবহারের ঊর্ধ্বগতি স্পষ্ট হয়েছে।
তবে সব ধরনের ওয়েবসাইটে এআইয়ের ব্যবহার সমান নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাণিজ্যিক বা ডটকম ডোমেইনের ওয়েবসাইটে এআই-নির্ভর কনটেন্টের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। ডটঅর্গ ডোমেইনের সাইটের তুলনায় এসব ওয়েবসাইটে এআই কনটেন্টের উপস্থিতি প্রায় দ্বিগুণ। আর শিক্ষা ও সরকারি ডোমেইনের ওয়েবসাইটের তুলনায় তা প্রায় ১০ গুণ বেশি।
এদিকে ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার মধ্যে গবেষণাটি নতুন করে ‘ডেড ইন্টারনেট থিওরি’ নিয়েও আগ্রহ তৈরি করেছে। এই তত্ত্বে দাবি করা হয়, ইন্টারনেটের বিপুলসংখ্যক কনটেন্ট মানুষের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা তৈরি করছে এবং এসব কনটেন্টের ব্যবহারকারীরাও অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা।
চলতি বছরের শুরুতে ক্লাউডফ্লেয়ারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এআই বটের তৈরি ইন্টারনেট ট্রাফিক মানুষের ট্রাফিককে ছাড়িয়ে গেছে। তবে নতুন গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুধু ওয়েবসাইটে এআইয়ের উপস্থিতিই নয়, ইন্টারনেটে প্রকাশিত লেখার ধরনও দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২২/৮/২০২৬