ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের ভেলাইন আয়মারা বিল আদর্শগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি বিল নিয়ম ভেঙে ১৫ লাখ টাকায় পাঁচ বছরের জন্য তৃতীয় পক্ষের কাছে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৩টি পরিবারের উপকারভোগী সদস্যদের সমিতির নামে মাছ চাষ ও জীবিকা নির্বাহের জন্য বরাদ্দ দেওয়া বিলটি আওয়ামী লীগ নেতা মো. আশরাফুল আলমের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৩টি পরিবারকে মাছ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে বুলাকীপুর ইউনিয়নের ভেলাইন মৌজার ৫ দশমিক ৮৭ একর আয়তনের বিলটি পাঁচ বছরের জন্য সমিতির নামে ডি.সি.আর মূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়। সমবায়ভিত্তিতে মাছ চাষ করে উপকারভোগীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করাই ছিল এ বরাদ্দের মূল উদ্দেশ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না করে উপকারভোগীরা নিজেরা মাছ চাষ না করে ভেলাইন আদর্শগ্রাম সমবায় সমিতি লিমিটেডের মাধ্যমে বিলটি মো. আশরাফুল আলমের কাছে প্রায় ১৫ লাখ টাকায় পাঁচ বছরের জন্য ইজারা দিয়েছেন। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ ঘটনায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিলটি ইজারা দেওয়া হলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেতে পারত। অন্যদিকে উপকারভোগীরা নিজেরা বিলটি ব্যবহার করলে ৫৩টি পরিবারই আর্থিকভাবে লাভবান হতো। একই সঙ্গে ডি.সি.আরের শর্ত ভঙ্গ করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য ব্যক্তির কাছে বিলটি সাব-লিজ দেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে।
তবে ভেলাইন আদর্শগ্রাম সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য আমিন, মাহফুজসহ অন্য সদস্যরা বলেন, সমিতির সদস্যদের মাছ চাষের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় আশরাফুলের সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে মাছ চাষ করছেন তাঁরা। মাছ চাষের মুনাফা প্রতিবছর সমিতির সদস্যদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়। গত কয়েক বছর ধরে আশরাফুলের মাধ্যমে মাছ চাষ করার কথাও স্বীকার করেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে মৎস্যচাষি আশরাফুল আলম বলেন, তিনি কোনোভাবেই বিলটি লিজ নেননি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের সমিতির সদস্যরাই বিলটির দেখাশোনা ও মাছ চাষের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি শুধু মাছের পোনা ও খাদ্য দিয়ে তাঁদের সহযোগিতা করছেন। বিলটি লিজ নেওয়ার বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওছার শেখ বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যেই সরকারি খাস বিল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তৃতীয় পক্ষের কাছে সাব-লিজ দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তিনি আরো বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ইজারাকৃত সরকারি সম্পত্তি অন্যের কাছে সাব-লিজ দিতে পারে না।
সানা/আপ্র/৮/৯/২০২৬