গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

চালুর ১২০ দিনের মাথায় ফের বন্ধ কাফকোর উৎপাদন

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০৩ পিএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৪৫ এএম ২০২৬
চালুর ১২০ দিনের মাথায় ফের বন্ধ কাফকোর উৎপাদন
ছবি

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত বহুজাতিক সার কারখানা কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) -প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম ব্যুরো: চালুর মাত্র ১২০ দিনের মাথায় আবার উৎপাদন বন্ধ করেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত বহুজাতিক সার কারখানা কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে কারখানাটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।

তবে কাফকো কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া উৎপাদন বন্ধের মূল কারণ নয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কারখানায় বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ বা ওভারহোলিং করা হয়। এবারও সেই নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।

দীর্ঘ প্রায় দুই মাস গ্যাস সংকটে বন্ধ থাকার পর গত ১ মে কাফকোতে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছিল। প্রস্তুতি শেষে ২ মে বিকেল থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু হয়। তখন দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছিল।

বর্তমানে কাফকোর দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন ৩২ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, এতদিন কাফকোতে প্রতিদিন ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও সোমবার থেকে তা কমিয়ে সাড়ে ৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা ও কারখানার চাহিদার ভিত্তিতেই গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে।

কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাফকোতে গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হবে।

কাফকোর চিফ অব পার্সোনেল ফারুখ আহমেদ বলেন, কারখানার সচলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন বছর পরপর এক থেকে দেড় মাসের জন্য ওভারহোলিং করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় টিউনিং শেষ হলে কারখানাটি আবার পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরবে।

কাফকোর উৎপাদন বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) ওপরও। কারণ, ওই কারখানার উৎপাদনের জন্য কাফকো থেকে পাওয়া অ্যামোনিয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়।

এদিকে কাফকোর পাশেই রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদনও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছরের ৪ মার্চ কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়। আগস্টের শেষ সপ্তাহেও কারখানাটি টানা সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ ছিল।

সিইউএফএলের কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিভিন্ন সময়ে কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। একসময় দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে কারখানাটির কার্যকর সক্ষমতা কমেছে।

কারখানাটির উৎপাদন বন্ধের ইতিহাসও দীর্ঘ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিইউএফএল মাত্র পাঁচ দিন চালু ছিল। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হওয়ার পর ১৩ অক্টোবর আবার চালু হয়। এরপর ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যায়। ২৬ ফেব্রুয়ারি চালুর পর দেড় মাসের মাথায় ১১ এপ্রিল গ্যাস সংকটে আবার বন্ধ হয়।

প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর গত বছরের ২ নভেম্বর কারখানাটি চালু হলেও ওই দিনই আবার বন্ধ হয়ে যায়। পরে চলতি বছরের ২ মার্চ চালু করা হলেও দুই দিন পর ৪ মার্চ গ্যাস সংকটে ফের উৎপাদন বন্ধ হয়। সবশেষ গত ২৫ আগস্ট সকালে কারখানাটিতে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। এতে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা কারখানাটিতে শিগগিরই ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ শুরুর প্রায় ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো উৎপাদনে ফিরতে পারেনি সিইউএফএল।

অন্যদিকে আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানাটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। গত ১৮ এপ্রিল রাতে কারখানায় মজুত থাকা শেষ অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে গেলে প্রথম দফায় উৎপাদন বন্ধ হয়।

পরে কাফকোতে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে সেখান থেকে অ্যামোনিয়া পেয়ে ৮ মে ডিএপি কারখানাটি আবার উৎপাদনে ফেরে। কিন্তু জর্ডান থেকে আমদানি করা ফসফরিক অ্যাসিডের সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে কারখানাটির উৎপাদন আবার পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

কারখানাটিতে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ টন ফসফরিক অ্যাসিড প্রয়োজন হয়। সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক অ্যাসিড মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে কারখানাটির। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন চালুর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডিএপিএফসিএলের দুটি ইউনিটে প্রতিদিন ৮০০ টন করে মোট ১ হাজার ৬০০ টন ডিএপি সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৮/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত বিদিশা
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত বিদিশা

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। প্রতারণার...

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কলেজছাত্রের নয় দিন পর মৃত্যু
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কলেজছাত্রের নয় দিন পর মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার নয় দিন পর মৃত্যুর কাছে হার মানলেন কলেজছাত্র ইমতিয়াজ উদ্দিন হৃদয় (২০)।...

মেহেরপুরে নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে কর্মশালা শুরু
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেহেরপুরে নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে কর্মশালা শুরু

এস এ খান শিল্টু: মেহেরপুরে প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা ও আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধিতে ত...

খুলনা সিটি করপোরেশনের ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বাজেট
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনা সিটি করপোরেশনের ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বাজেট

এস,এম ফরিদ রানা, খুলনা: খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর দেড়শ টাকার খাবারের দাওয়াত পেলেন বিরোধীদলীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রধান দুই দলের প্রধানদের এমন আচরণের ইতিবাচক প্রভাব দেশের রাজনীতিতে পড়বে ?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 20 ঘন্টা আগে