দেশে হামের প্রাদুর্ভাব কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৮৮৬ জন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিন অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৮৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে নিয়মিতভাবে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৭৯৫ জন।
উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৪৬ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ১৩০ জন, রাজশাহীতে ৯১ জন, ময়মনসিংহে ৭২ জন, চট্টগ্রামে ৬৩ জন, বরিশালে ৪৭ জন, খুলনায় ৩২ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৭২ জন রোগী এসেছেন। তাদের মধ্যে ৮৮৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৮৪ জন, চট্টগ্রামে ২৫৪ জন, সিলেটে ১১৯ জন, বরিশালে ৭১ জন, খুলনায় ৭০ জন, ময়মনসিংহে ৪৮ জন, রাজশাহীতে ৩০ জন এবং রংপুর বিভাগে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৯৪ জনে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৮ জনে। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৭৩০ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি। আক্রান্ত শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৪/৮/২০২৬