বেশি কাজ করার জন্য ঘুম বাদ দেওয়া সেই মুহূর্তে নিরীহ মনে হতে পারে। কিন্তু আপনার হৃৎপিণ্ড হয়তো নীরবে এর মূল্য দিচ্ছে। হ্যাঁ, ধারাবাহিকভাবে প্রতি রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমানো ধীরে ধীরে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। ঘুম শুধু বিশ্রামের জন্য নয়। এটি এমন অনেক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে- যা কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। তাই দীর্ঘস্থায়ী কম ঘুম হৃৎপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
ছয় ঘণ্টার কম ঘুমানোর ঝুঁকিগুলো হলো ধীরে ধীরে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি; করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বৃদ্ধি; অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি: স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি; টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি- যা স্বাধীনভাবে কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে; ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি- উভয়ই হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
আমেরিকান জার্নাল অফ প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কম ঘুমের সঙ্গে হৃদরোগজনিত মৃত্যু; কার্ডিওমেটাবলিক ঝুঁকি ও করোনারি আর্টারি ডিজিজের একটি শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে।
অপর্যাপ্ত ঘুম কীভাবে হৃৎপিণ্ডকে প্রভাবিত করে: অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে- যা সাধারণত গভীর ঘুমের সময় সামান্য কমে যায়। ক্রমাগত এই হ্রাস না ঘটলে তা ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। কম ঘুম কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়- যা রক্তনালী এবং হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। ঘুমের অভাব শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত- যা ধমনির ক্ষতি ও হৃদরোগের একটি পরিচিত কারণ। অপর্যাপ্ত ঘুম রক্তে শর্করা এবং ক্ষুধার হরমোন নিয়ন্ত্রণের শরীরের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে- যা পরোক্ষভাবে ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। অনিয়মিত ঘুম স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করতে পারে- যা হৃৎস্পন্দন ও ছন্দ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণা- যা ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভের তথ্য ব্যবহার করে করা হয়েছিল। এতে দেখা গেছে, ঘুমের সময়কাল ও ব্যাঘাতসহ ঘুম সম্পর্কিত কারণগুলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকির সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণভাবে যুক্ত ছিল।
আদর্শ ঘুমের পরিমাণ কত: হৃদস্বাস্থ্য বিষয়ক বেশিরভাগ নির্দেশিকা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতি রাতে প্রায় সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেয়। এ সময়কালটি সাধারণত সর্বনিম্ন কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে এর চেয়ে অনেকটা কম বা বেশি সময় ধরে ঘুমালে হৃদযন্ত্র-সম্পর্কিত ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
সূত্র: অনলাইন
কেএমএএ/আপ্র/১৫.০৮.২০২৬