দেশের চলমান গ্যাস সংকট থেকে স্থায়ীভাবে বের হতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর আশা, অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও আগের বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়নবিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে যে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই সংকট থেকে স্থায়ীভাবে বের হতে গ্যাস আমদানি ও সরবরাহ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, “দেশের চলমান গ্যাস সংকট থেকে স্থায়ীভাবে বের হতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে দুই বছর লাগতে পারে। এই অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”
মুক্তাদির বলেন, গ্যাসের চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে অবকাঠামো নির্মাণে দুই বছর সময় লাগায় এই সময়টিতে শিল্প খাতকে কীভাবে সংকটের মধ্যে সচল রাখা যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “এই দুই বছর শিল্পখাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই জরুরি ও প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কোনো সমাধান করা যায় কি না, তা নিয়েও সরকার কাজ করছে।”
মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশটির ছোট আকারের এলএনজি বহনকারী জাহাজগুলো বর্তমানে অন্য কাজে নিয়োজিত থাকায় দ্রুত গ্যাস আনার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও সাময়িকভাবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি করা যায় কি না, সে বিষয়ে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ার ছোট আকারের জাহাজগুলো বর্তমানে অন্যত্র কাজে নিয়োজিত। ফলে সেখান থেকে দ্রুত গ্যাস আনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আছে। এরপরও সাময়িকভাবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি করা যায় কি না, সে বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।”
সিলেটে আয়োজিত কর্মশালায় কৃষি অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আগের বছরের কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়।
সানা/আপ্র/১৫/৮/২০২৬