গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

মেনু

রান্না ছাড়াই পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া যায় যে চাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩০ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২২:৩৪ এএম ২০২৬
রান্না ছাড়াই পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া যায় যে চাল
ছবি

শুধু পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলেই চালটি নরম হয়ে খাবারের উপযোগী হয়ে ওঠে। এর নাম ‘কোমল চাল’ -ছবি সংগৃহীত

চাল বা ভাত বলতেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফুটন্ত পানি, বাষ্প ওঠা হাঁড়ি আর রান্নাঘরে কাটানো সময়। তবে ভারতের আসামে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এমন এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী চালের ব্যবহার হয়ে আসছে, যা রান্না ছাড়াই খাওয়া যায়। শুধু পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলেই চালটি নরম হয়ে খাবারের উপযোগী হয়ে ওঠে। এর নাম ‘কোমল চাল’।
আসামের এই ঐতিহ্যবাহী চাল স্থানীয়ভাবে ‘কোমল সউল’ নামে পরিচিত। এটি মূলত কম অ্যামাইলোজসমৃদ্ধ ‘চকুয়া’ জাতের ধান থেকে তৈরি করা হয়। ধান কাটার পর তা সেদ্ধ করে শুকিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এই প্রক্রিয়ার কারণে চালটি পানির সংস্পর্শে এলে দ্রুত নরম হয়ে যায়।

কীভাবে রান্না ছাড়াই খাওয়া যায়: সাধারণ চালের মতো কোমল চাল ফুটন্ত পানিতে সেদ্ধ করার প্রয়োজন হয় না। গবেষণা ও প্রচলিত ব্যবহারের তথ্য অনুযায়ী, হালকা গরম পানিতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলেই চালটি নরম হয়ে খাওয়ার উপযোগী হয়। ঐতিহ্যগতভাবে ঠাণ্ডা বা হালকা গরম পানিতেও এটি ভিজিয়ে রাখা হয়।

এর পেছনে রয়েছে চালটির বিশেষ গঠন। অ্যামাইলোজ হলো শ্বেতসারের একটি উপাদান, যা চালের গঠন ও শক্তভাবের ওপর প্রভাব ফেলে। চকুয়া চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকায় এটি সাধারণ চালের চেয়ে দ্রুত পানি শোষণ করে এবং সহজেই নরম হয়ে যায়।

দই, গুড়, দুধের সঙ্গে জনপ্রিয়: আসামে কোমল চাল ঐতিহ্যবাহী সকালের নাশতা বা হালকা খাবার ‘জলপান’-এর অন্যতম উপকরণ। পানিতে ভেজানো চালের সঙ্গে দই, গুড়, দুধ, কলা, সরিষার তেল, পেঁয়াজ কিংবা আচার মিশিয়ে খাওয়া হয়। সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও এর প্রচলন রয়েছে।

বিশেষ করে দই ও গুড়ের সঙ্গে কোমল চালের মিশ্রণ আসামে বেশ জনপ্রিয়। সহজে প্রস্তুত করা যায় এবং পেটও ভরা থাকে বলে এটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে।

কৃষক ও শ্রমজীবীদের জন্য সুবিধাজনক: রান্নার প্রয়োজন না থাকায় কোমল চাল একসময় কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী ছিল। রান্নার সময় কিংবা জ্বালানি—কোনোটিই না থাকলেও অল্প সময়ে পানি দিয়ে ভিজিয়ে খাবার প্রস্তুত করা যেত।

তবে এটি আধুনিক বাণিজ্যিক ‘ইনস্ট্যান্ট রাইস’ নয়। বরং শত শত বছর ধরে আসামি খাদ্যসংস্কৃতিতে ব্যবহৃত হয়ে আসা একটি ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়াজাত চাল।

জিআই স্বীকৃতির পর বাড়ছে আগ্রহ: আসামের এই বিশেষ চাল ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। এর ফলে চালটির কৃষি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও স্বীকৃতি পেয়েছে।

বর্তমানে আসামের বাইরেও কোমল চাল নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের ভোক্তাদের কাছে এই ঐতিহ্যবাহী খাবার পৌঁছে দিতে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করার বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। ফলে একসময় মূলত স্থানীয় মানুষের খাবার হিসেবে পরিচিত কোমল চাল এখন বৃহত্তর বাজারেও পরিচিতি পাচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি
সানা/ডিসি/আপ্র/১৫/৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

আচরণে অসন্তুষ্ট সুলতান, পুত্রবধূর রাজকীয় উপাধি বাতিল
১৫ আগস্ট ২০২৬

আচরণে অসন্তুষ্ট সুলতান, পুত্রবধূর রাজকীয় উপাধি বাতিল

ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ তাঁর পুত্রবধূ পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাউইয়াহর সব রাজকীয় উপাধি প্রত্য...

১০০ মাইল দৌড়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ৪৪ বছরের নারী
১৫ আগস্ট ২০২৬

১০০ মাইল দৌড়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ৪৪ বছরের নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪ বছর বয়সী আলট্রাম্যারাথন দৌড়বিদ অ্যাশলি পলসন ট্রেডমিলে ১০০ মাইল দৌড়ে নারীদের মধ্যে...

হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের এলাকা করার হুমকি ট্রাম্পের
১৫ আগস্ট ২০২৬

হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের এলাকা করার হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগির হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরা...

পাইলটের শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত, বিমান নামার রহস্য কী
১৫ আগস্ট ২০২৬

পাইলটের শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত, বিমান নামার রহস্য কী

মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর ভারতের এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলটের শরীরে গাঁজার...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

লোডশেডিং নিয়ে বিএনপি সরকারের কড়া সমালোচনা নাহিদ ইসলামের

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিএনপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ২০০১-২০০৬ সময়কার লোডশেডিং সংকটের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন নাহিদ ইসলাম সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 20 ঘন্টা আগে