মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগির হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করবেন। তবে তার এ বক্তব্য আনুষ্ঠানিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নাকি রাজনৈতিক বক্তব্য, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটির পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত এক সমাবেশে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকিতে ইরান ভীত হবে না। হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বের অধীনেই থাকবে বলেও তিনি জানান।
ইরানের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পরাজয় মেনে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর থাকবে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি রুশ লেখক ফিওদর দস্তয়েভস্কির ‘দ্য ব্রাদার্স কারামাজভ’ উপন্যাসের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ওয়াশিংটনের শাসনব্যবস্থা ও পররাষ্ট্রনীতি অতিরিক্তভাবে ‘মিথ্যার’ ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
জ্বালানি পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে প্রণালিটিকে ঘিরে যেকোনো সামরিক বা রাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের পথ তৈরি করা ছিল যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য।
এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে তেহরান। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ ও বন্দরকে লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ কার্যকর করে।
গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা চলছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও; বেড়েছে তেল ও গ্যাসের দাম।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে, আল-জাজিরা
এসি/আপ্র/১৫/০৮/২০২৬