দেশজুড়ে কমপ্রেসড প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও গ্যাসের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের লাইন কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না।
উত্তরার বিমানবন্দরসংলগ্ন মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজে গিয়ে দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। চালকদের কেউ কেউ জানান, গ্যাস নেওয়ার জন্য তারা ভোর ৪টা থেকেই লাইনে অপেক্ষা করছেন।
বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেট কার চালক লালচাঁন গ্যাস নিতে ভোর ৫টায় লাইনে দাঁড়ান। প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পর বেলা ১১টার দিকে তিনি ১৭০ টাকার গ্যাস পান। তবে এই গ্যাসে কর্মস্থল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়েও তিনি সন্দিহান।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন আরো অনেক চালক।
দক্ষিণখান থেকে গ্যাস নিতে আসা ইমরান নামের এক প্রাইভেট কার চালক জানান, উত্তরা এলাকার দুটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে ভোর ৬টার দিকে লাইনে দাঁড়ান তিনি। দীর্ঘ সারিতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ২১৭ টাকার গ্যাস পান। তবে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় হতাশ হয়েই পাম্প ছাড়েন তিনি।
লাইনে না দাঁড়িয়ে গ্যাস পাওয়ার অভিযোগ
গ্যাস সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন চালক। মগবাজার থেকে গ্যাস নিতে আসা কামরান নামের এক চালক অভিযোগ করেন, পাম্পের কিছু কর্মী ১০০ থেকে ২০০ টাকার বিনিময়ে লাইনে অপেক্ষা না করিয়ে অনেককে গ্যাস সরবরাহ করছেন।
তবে ফিলিং স্টেশনের পরিচালক বলেন, দেশব্যাপী গ্যাস সংকটের কারণে তারাও কম সরবরাহ পাচ্ছেন। এর ওপর সরবরাহ করা গ্যাসের চাপও পর্যাপ্ত নয়। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও যানবাহনে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু
এদিকে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে বলে বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বাসসকে জানান, সামিট তাদের ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বাড়বে এবং মধ্যরাতের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় সরবরাহে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, একই সঙ্গে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট থেকেও গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এতে আবাসিক রান্না, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি লোডশেডিংও বেড়ে যায়। একই সংকটের প্রভাব পড়ে যানবাহনের জ্বালানি সরবরাহে। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
এসি/আপ্র/১৫/০৮/২০২৬