মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলায় তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নথি ও সাক্ষ্য নিতে চায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিবিসির আইনজীবীরা গত মে মাসে ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারকে তলবি নোটিশ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাদের হাতে সরাসরি নোটিশ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা সফল হয়নি বলে আদালতকে জানিয়েছে বিবিসি।
মামলাটির সূত্রপাত ২০২৪ সালে প্রচারিত বিবিসির একটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠানকে ঘিরে। এতে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে হামলার আগে দেওয়া ট্রাম্পের ভাষণের দুটি ভিন্ন অংশ একসঙ্গে সম্পাদনা করে প্রচার করা হয়। এ ঘটনায় বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা করেন ট্রাম্প।
পরে সম্পাদনার ভুলের জন্য বিবিসি ক্ষমা চাইলেও প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ওই ভুল মানহানির মামলা করার জন্য যথেষ্ট কারণ নয়।
বিবিসির আইনজীবীদের যুক্তি, ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার সময় তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে জানা ছিল। তাই তাদের সাক্ষ্য ও নথি মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও ইভাঙ্কা ট্রাম্প তাদের বাবার ভাষণ সংশোধন ও দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে জ্যারেড কুশনার সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে একটি খসড়া বিবৃতি তৈরি করেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ফ্লোরিডায় ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও জ্যারেড কুশনারের বাড়িতে নোটিশ দিতে গেলে নিরাপত্তা চৌকিতে বাধার মুখে পড়েন বিবিসির প্রতিনিধিরা। পরে মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকেও নোটিশ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়।
নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের জন্য নোটিশ দেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি বিবিসির প্রতিনিধিরা। পরে দ্বিতীয়বার চেষ্টা করলে তাদের জানানো হয়, সেদিন আইন বিভাগে কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
ট্রাম্পের অভিযোগ, বিবিসি ইচ্ছাকৃতভাবে এবং বিভ্রান্তিকরভাবে তার ভাষণ সম্পাদনা করেছে। এর ফলে এমন একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল যে তিনি সরাসরি সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিবিসি অবশ্য বলেছে, এটি ছিল সম্পাদনার ভুল।
এদিকে ট্রাম্পের আর্থিক নথিও চেয়েছে বিবিসি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওই প্রামাণ্য অনুষ্ঠান তার ব্যবসায়িক স্বার্থের ক্ষতি করেছে—ট্রাম্পের এমন অভিযোগ যাচাই করতে এসব নথি প্রয়োজন। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করে বলেছেন, আর্থিক নথি প্রকাশ করলে তার অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
মামলাটি এগিয়ে গেলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এসি/আপ্র/১৫/০৮/২০২৬