গোসল করা কিংবা বাথরুম ব্যবহার করা আমাদের প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজ। কিন্তু অনেক সময় বাথরুমে হঠাৎ মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, জ্ঞান হারানো কিংবা পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
আসুন জেনে নেওয়া যাক, বাথরুমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাব্য কারণগুলো কী এবং কীভাবে সতর্ক থাকবেন-
মাথায় সরাসরি পানি দেওয়া
গোসলের সময় হঠাৎ মাথায় ঠান্ডা বা খুব গরম পানি ঢালার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে আচমকা তাপমাত্রার পরিবর্তন শরীরে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে এবং কারও কারও ক্ষেত্রে রক্তচাপ ও হৃদ্স্পন্দনে সাময়িক পরিবর্তন ঘটতে পারে। হঠাৎ মাথায় পানি পড়লে মস্তিষ্কের সংবেদনশীল স্নায়ু ও রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ে। রক্তনালি সংকুচিত হলে রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে যায় এবং রক্তচাপ অনেকটাই বেড়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম রক্তনালি ফেটে গিয়ে হেমোরেজিক স্ট্রোক হতে পারে কিংবা রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘুরতে পারে
অনেকক্ষণ বসে থাকার পর দ্রুত দাঁড়িয়ে গেলে কিছু মানুষের রক্তচাপ সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। একে অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন বলা হয়। এতে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, চোখে অন্ধকার দেখা এমনকি পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এ সমস্যার প্রবণতা আরো বাড়ে। তাই টয়লেট ব্যবহার বা গোসলের পর হঠাৎ উঠে দাঁড়ানোর সময় তাই কিছুক্ষণ স্থির থেকে ধীরে ধীরে দাঁড়ানো নিরাপদ।
মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ করলে শরীরে সাময়িকভাবে রক্তচাপ ও হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রমে পরিবর্তন ঘটতে পারে। টয়লেট ব্যবহারের সময় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর দ্রুত দাঁড়ানোও পোস্টুরাল হাইপোটেনশনের কারণ হতে পারে।
অতিরিক্ত ঠান্ডা পানির ব্যাপারে সতর্কতা
খুব ঠান্ডা পরিবেশ বা পানির সংস্পর্শে শরীরের রক্তনালি সংকুচিত হতে পারে এবং রক্তচাপ ও হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক তথ্যেও অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরমের সঙ্গে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকির সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকি বেশি।
ভেজা মেঝেতে বিপদ
বাথরুমের সবচেয়ে বাস্তব ঝুঁকিগুলোর একটি হলো পা পিছলে পড়ে যাওয়া। ভেজা মেঝে, সাবানের ফেনা কিংবা পিচ্ছিল টাইলসের কারণে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত লাগতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাথরুমে পড়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের অন্যান্য জায়গার তুলনায় বাথরুমে পড়ে গেলে আঘাত গুরুতর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
বয়স্কদের একা বাথরুমে না যাওয়াই ভালো
যাদের আগে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা ভারসাম্য হারানোর ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
স্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন
বাথরুমে কেউ হঠাৎ পড়ে গেলে বা অসুস্থ হয়ে পড়লে শুধু ‘মাথা ঘুরেছে’ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, একটি হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া-এসব স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। তীব্র মাথাব্যথা, হাঁটতে সমস্যা বা দৃষ্টির সমস্যা থাকলেও দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
বাথরুম নিরাপদ রাখতে যা করবেন
গোসলের সময় খুব ঠান্ডা পানি এড়িয়ে নিজের শরীরের উপযোগী তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করুন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তার চিকিৎসা করুন এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেবেন না। বাথরুমের মেঝে শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন, পিচ্ছিল হলে অ্যান্টি-স্লিপ ব্যবস্থা নিন এবং বয়স্কদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী গ্র্যাব বার লাগান। বয়স্ক বা হৃদরোগীরা বাথরুমের দরজা শক্ত করে লক না করা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ওয়েবএমডি
এসি/আপ্র/১৫/০৮/২০২৬