দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলেই কি পেটে অস্বস্তি শুরু হয়? কখনো গ্যাস, আবার কখনো অ্যাসিডিটির জ্বালাপোড়ায় ভোগেন অনেকে। বিশেষ করে যাদের বদহজম বা অ্যাসিডিটির প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় পেট খালি থাকলে অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে অল্প পরিমাণে সহজপাচ্য ও হালকা কিছু খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। হাতের কাছে রাখতে পারেন কয়েকটি সহজ খাবার।
মুড়ি বা খই
হালকা ক্ষুধা লাগলে অল্প পরিমাণে মুড়ি বা খই খেতে পারেন। এগুলো তুলনামূলকভাবে হালকা খাবার। দীর্ঘ সময় পেট খালি না রাখতেও সহজ এই খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
ডাবের পানি
ডাবের পানি শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। পেটের অস্বস্তির সময় অনেকের কাছে এটি আরামদায়কও মনে হতে পারে। তবে কারও ক্ষেত্রে কোনো খাবার বা পানীয় অস্বস্তি বাড়ালে তা এড়িয়ে চলাই ভালো।
টক দই
টক দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। পরিমাণমতো দই খাওয়ার অভ্যাস হজমের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে যাদের দুধজাত খাবারে অস্বস্তি হয়, তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
কলা
কলা সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাবার। এতে পটাশিয়াম ও আঁশ রয়েছে। ক্ষুধার সময় অল্প পরিমাণে কলা খাওয়া যেতে পারে। তবে সবার শরীরে একই ধরনের খাবার একইভাবে কাজ করে না।
মৌরি ও জোয়ান
পেট ফাঁপা বা গ্যাসের অস্বস্তিতে অনেকে মৌরি বা জোয়ান ব্যবহার করেন। সামান্য পরিমাণ চিবিয়ে খাওয়া কিংবা পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি পান করার প্রচলন রয়েছে। তবে এগুলো গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসার বিকল্প নয়।
শসা ও তরমুজ
শসা ও তরমুজে পানির পরিমাণ বেশি। গরমের দিনে এগুলো শরীরে পানির চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। হালকা খাবার হিসেবে পরিমাণমতো খাওয়া যেতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি
পেটের অস্বস্তি এড়াতে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা থেকে বিরত থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুধা লাগলে একবারে অনেক খাবার না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাবার খাওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ঝাল, মসলা, তেল ও ভাজাপোড়া খাবার অনেকের অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই নিজের শরীরে কোন খাবারে অস্বস্তি বাড়ে, সেটিও খেয়াল রাখা জরুরি।
তবে নিয়মিত বা তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, গিলতে সমস্যা, অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া কিংবা পায়খানায় রক্তের মতো উপসর্গ দেখা দিলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এসি/আপ্র/১১/০৮/২০২৬