যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪ বছর বয়সী আলট্রাম্যারাথন দৌড়বিদ অ্যাশলি পলসন ট্রেডমিলে ১০০ মাইল দৌড়ে নারীদের মধ্যে দ্রুততম সময়ের বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। ১০০ মাইল বা প্রায় ১৬১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তাঁর সময় লেগেছে ১২ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট ১০ সেকেন্ড।
গত ১৮ এপ্রিল ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টন ম্যারাথন এক্সপোতে এই কীর্তি গড়েন অ্যাশলি। তাঁর এই সময় আগের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা কম। ফলে ট্রেডমিলে নারীদের ১০০ মাইল দৌড়ের রেকর্ডে বড় ব্যবধানেই নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন তিনি।
ফিটনেস বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় অ্যাশলি একই সঙ্গে প্রশিক্ষক ও পেশাদার আলট্রাম্যারাথন দৌড়বিদ। তাঁর অনুসারীর সংখ্যা লাখের বেশি। ব্যক্তিজীবনে তিনি চার সন্তানের মা; তাঁর এক নাতিও রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে তিনি জানিয়েছেন, কয়েক বছর ধরেই ট্রেডমিলে ১০০ মাইল দৌড়ের রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।
রাস্তায় দৌড়ানোর ক্ষেত্রে নিজের গতি ট্রেডমিলের আগের রেকর্ডের চেয়ে বেশি ছিল বলে রেকর্ডটি ভাঙার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন অ্যাশলি। তবে ট্রেডমিলে দীর্ঘ সময় একইভাবে দৌড়ানোকে তিনি আলাদা ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা হিসেবে দেখেছেন।
ট্রেডমিল দৌড়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অ্যাশলি বলেন, বাইরে দৌড়ানোর সময় ভূখণ্ডের পরিবর্তন ঘটে। কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু, আবার কোথাও বাঁক থাকে। কিন্তু ট্রেডমিলে একই ধরনের গতিবিধি দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যেতে হয়। ফলে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু পেশিতে প্রচণ্ড চাপ ও ক্লান্তি তৈরি হয়।
এর আগেও কঠিন সব আলট্রাম্যারাথনে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন অ্যাশলি। ২০২৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ প্রতিকূল পরিবেশের দৌড় প্রতিযোগিতা ব্যাডওয়াটার ১৩৫-এ নারীদের মধ্যে দ্রুততম দৌড়ের রেকর্ড গড়েছিলেন। ডেথ ভ্যালি থেকে শুরু হওয়া ওই প্রতিযোগিতায় তাঁকে প্রায় ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে দৌড়াতে হয়েছিল।
এবারের রেকর্ড দৌড়েও বিশ্রামের সুযোগ থাকলেও সময় থামানোর কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে বাথরুম ব্যবহারের জন্য নেওয়া কয়েকটি ছোট বিরতি ছাড়া প্রায় পুরো সময়ই তাঁকে দৌড়াতে হয়েছে। দীর্ঘ এই দৌড়ে তাঁকে উৎসাহ দিতে উপস্থিত ছিলেন ভক্ত ও স্বজনেরা। তাঁর নিয়ন রঙের চুলের সঙ্গে মিলিয়ে গোলাপি পরচুলা পরে ভক্তদের উৎসাহ দেওয়ার দৃশ্যও হয়ে ওঠে আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে রেকর্ড ভাঙার শেষ পর্যায়ে। অ্যাশলির এক ছেলে মুঠোফোনে ভিডিও যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁর অন্য ভাই-বোনদের মায়ের রেকর্ড গড়ার দৃশ্য দেখাচ্ছিলেন। সন্তান ও নাতির সামনে এই অর্জনকে তাই নিজের জীবনের বিশেষ স্মৃতি হিসেবে দেখছেন তিনি।
১৪০টির বেশি ম্যারাথন শেষ করা অ্যাশলির কাছে অবশ্য বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি বার্তা দেওয়া। তাঁর ভাষায়, এমন কিছু অর্জন করা, যা আগে কেউ করেনি, সব সময়ই আনন্দের। তবে সন্তান ও নাতিকে দেখাতে পেরেছেন যে বড় স্বপ্ন দেখা যায় এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব-এটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাশলির বার্তাও সরল-কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, ধারাবাহিক থাকতে হবে এবং স্বপ্নের সীমা আরো বড় করতে হবে। তাঁর ১০০ মাইলের এই দৌড় তাই শুধু একটি বিশ্বরেকর্ড নয়; অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্নপূরণের এক অনুপ্রেরণাদায়ী দৃষ্টান্তও। তথ্যসূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস
সানা/ডিসি/আপ্র/১৫/৮/২০২৬