প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ শনিবার (১৫ আগস্ট)। এ উপলক্ষে সারা দেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের দলীয় কার্যালয় এবং স্থানীয় মসজিদে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হবে সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। খবর বাসস।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র ও চোখের সমস্যাও ছিল তাঁর।
গত বছরের ২৩ নভেম্বর হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা তদারক করে। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় পরে তাঁকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগও সফল হয়নি।
মৃত্যুর সময় তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি হাসপাতালে ছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্য এবং চিকিৎসকরাও শেষ সময়ে তাঁর পাশে ছিলেন।
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা। তিনি ১৯৯১ থেকে তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে তাঁর জন্ম বলে বিএনপির নিজস্ব তথ্য ও একাধিক জীবনীসূত্রে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নথিতে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। বিএনপির তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মা তৈয়বা মজুমদার। পরিবারের আদি নিবাস ফেনীর ফুলগাজীতে। দেশভাগের পর পরিবারটি দিনাজপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন।
১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন এবং বিদেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর খালেদা জিয়া সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। পরের বছর ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা, কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও বিএনপির নেতৃত্বে অটল ছিলেন। নির্বাচনী রাজনীতিতেও তাঁর দীর্ঘ সাফল্যের রেকর্ড রয়েছে। তিনি জীবদ্দশায় যে আসনগুলো থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সেগুলোর কোনোটিতেই পরাজিত হননি।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্বে তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমান দায়িত্ব নেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি বর্তমানে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।
সানা/আপ্র/১৫/৮/২০২৬