গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

মেনু

গ্যাসমুক্ত না করেই জাহাজ কাটায় সীতাকুণ্ডে ৯ মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০১:৪৬ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০২:৩৩ এএম ২০২৬
গ্যাসমুক্ত না করেই জাহাজ কাটায় সীতাকুণ্ডে ৯ মৃত্যু
ছবি

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি পুরোনো জাহাজ গ্যাসমুক্ত না করেই কাটার কাজ চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। ওই জাহাজে বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে শুক্রবার নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয় বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে।

সরকারের একাধিক সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটিতে হাইড্রোজেন সালফাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জাহাজটির নিচের অংশে সালফারযুক্ত কোনো উপাদান পানির সংস্পর্শে আসার পর হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল, সেটি প্রায় আট-নয় তলার সমান উঁচু একটি এলএনজি ট্যাংকার। এ ধরনের খালি জাহাজে কার্বন গ্যাস জমে যায়। বাতাসের সংস্পর্শে কার্বন ডাই-অক্সাইড বা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের সৃষ্টি হয়। তাই গ্যাসমুক্ত করে তারপর কাটতে হয়। যতটুকু জানতে পেরেছি, গ্যাসমুক্ত না করে কাটার কাজ করা হচ্ছিল।”

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়েও গ্যাসের গন্ধ পেয়েছেন তাঁরা। পরে সাগরপাড়ের বাতাস ও জোয়ারের পানির কারণে গ্যাসের পরিমাণ কিছুটা কমে আসে।

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাঁদের প্রাথমিক পরিদর্শনে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হয়েছে। প্রধানত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অন্য গ্যাসও ছিল।

তাঁর ভাষ্য, এলএনজিবাহী পুরোনো জাহাজটির কার্গো ট্যাংকার আগেই অপসারণ করা হয়েছিল। জাহাজের নিচের কোনো অংশে সালফারযুক্ত উপাদান থেকে পচনের মাধ্যমে সালফার জমে থাকতে পারে। পরে পানির সংস্পর্শে এসে সেখান থেকে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস তৈরি হয়ে থাকতে পারে। গ্যাসের ঘনত্ব বেশি থাকায় শুরুতে সেখানে যাওয়া ব্যক্তিরা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন।

তবে ঠিক কোন গ্যাসের প্রভাবে এবং কীভাবে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা
ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের এক শ্রমিক জানান, জাহাজের নিচের একটি ট্যাংক কাটার কাজ চলছিল। শুক্রবার সকালে শ্রমিকেরা সেখানে কাজ করার সময় ট্যাংকের একটি অংশ কাটার পর সেটি খুলতে গেলে প্রথমে দুজন শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁদের উদ্ধারে কয়েকজন এগিয়ে গেলে তাঁরাও অচেতন হয়ে পড়েন।

ওই শ্রমিকের ভাষ্য, জাহাজের কাছাকাছি যাঁরাই গিয়েছেন, তাঁরা গ্যাসের তীব্র গন্ধ পেয়েছেন এবং কেউ কেউ অচেতন হয়ে পড়েছেন।

তবে ইয়ার্ডটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, শুক্রবার তাঁদের ইয়ার্ডে কাটার কাজ ছিল না। গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাস লিকেজ দেখতে পেয়ে শিফট ইনচার্জসহ তিনজন কর্মকর্তা সেখানে গেলে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের দেখে আরও চারজন এগিয়ে গেলে তাঁরাও অচেতন হয়ে যান।

দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডের মূল ফটক বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভেতরে ঢোকার সুযোগ পেয়ে স্থানীয়রা ইয়ার্ডে ভাঙচুর করেন।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কে এম শহীদুল্লাহ অভিযোগ করেন, ইয়ার্ডটির গ্রিন ইয়ার্ড হিসেবে সনদ থাকলেও শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি। তাঁর দাবি, অতীতেও শিপ ইয়ার্ডে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি প্রতিটি নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।

তবে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডটি গ্রিন ইয়ার্ড এবং সেখানে নীতিমালা মেনেই জাহাজ কাটার কথা। কীভাবে ওই জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হলো, বিশেষজ্ঞদের তদন্তের আগে তা বলা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার পুরো ব্যয়ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। প্রয়োজন হলে আহতদের ঢাকায় নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার বলেন, দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রয়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও এমন মৃত্যুর কোনো সান্ত্বনা হয় না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে। এসব তদন্তের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
সানা/আপ্র/১৫/৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, জানত না পুলিশ
১৫ আগস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, জানত না পুলিশ

১৫ আগস্ট ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সাতক্ষীরায় মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষ...

কক্সবাজারের হোটেল কক্ষে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
১৫ আগস্ট ২০২৬

কক্সবাজারের হোটেল কক্ষে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রব...

আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক
১৪ আগস্ট ২০২৬

আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

মো: সাজ্জাদ হোসেন, আশুলিয়া: সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বিথি আক্তার (২২) নামে এক পোশাক শ্রমিকের ম...

খোলাহাটি মেলায় লটারি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ, প্রশাসনকে তিন দিনের আল্টিমেটাম
১৪ আগস্ট ২০২৬

খোলাহাটি মেলায় লটারি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ, প্রশাসনকে তিন দিনের আল্টিমেটাম

মাহাবুব রহমান বিপ্লব বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার খোলাহাটি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

লোডশেডিং নিয়ে বিএনপি সরকারের কড়া সমালোচনা নাহিদ ইসলামের

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিএনপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ২০০১-২০০৬ সময়কার লোডশেডিং সংকটের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন নাহিদ ইসলাম সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 1 ঘন্টা আগে