এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো শক্তিশালী টাইফুনের আঘাতে বিপর্যস্ত হয়েছে চীন। শনিবার (১১ জুলাই) দেশটির পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ে টাইফুন ‘বাভি’। ঝুঁকি মোকাবিলায় আগেই প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও বিভিন্ন পরিবহনসেবা। বাতিল করা হয়েছে শত শত ফ্লাইট।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত টাইফুনটি শনিবার সন্ধ্যায় প্রথমে উপকূলীয় তাইঝৌ শহরে আঘাত হানে। পরে মধ্যরাতে দ্বিতীয় দফায় ওয়েনঝৌ শহরে স্থলভাগে প্রবেশ করে। এর আগে জাপানের কয়েকটি দ্বীপে তাণ্ডব চালিয়ে তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল ঘেঁষে যাওয়ার সময় ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায় এটি।
টাইফুনটি বর্তমানে দুর্বল হয়ে শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হলেও এর বৃষ্টিবলয়ে থাকা বিপুল জলীয় বাষ্প এখনো বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার ঝেজিয়াং প্রদেশের পূর্বাঞ্চল ও ফুজিয়ান প্রদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুধু ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকেই ১৭ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাশের প্রদেশগুলো থেকেও হাজারো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঝেজিয়াংয়ে স্কুল, কর্মস্থল ও খোলা আকাশের নিচের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট এবং কয়েক ডজন ট্রেন চলাচল। প্রায় এক কোটি মানুষের শহর ওয়েনঝৌ থেকেও কয়েক লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেইজিংয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে এক লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার সুপার টাইফুন হিসেবে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে বাভি। পরে এটি দুর্বল হয়ে জাপানের রিউকিউ দ্বীপপুঞ্জে আঘাত করলে অন্তত পাঁচজন আহত হন এবং হাজারো মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টির কারণে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়।
এর আগে টাইফুনটির প্রভাবে ফিলিপাইনে ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন নিহত হন। অন্যদিকে গত সপ্তাহে দক্ষিণ চীনে আঘাত হানা টাইফুন ‘মায়সাক’-এ অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি ব্যাপক কৃষি ক্ষয়ক্ষতি এবং হুবেই প্রদেশে দুটি টর্নেডোর ঘটনাও ঘটে।
সূত্র: বিবিসি
এসি/আপ্র/১২/০৭/২০২৬