ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নতুন স্টিলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’। সুপারসনিক ব্রাহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এই যুদ্ধজাহাজটি পূর্বাঞ্চলীয় নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে আয়োজিত অভিষেক অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ও প্রাণঘাতী অস্ত্রব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত সুপারসনিক ব্রাহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই রণতরী সজ্জিত করা সম্ভব। তিনি এটিকে ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন।
রাজনাথ সিং জানান, রণতরীটিতে মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি সমন্বিত বহুমুখী রাডার রয়েছে, যা দূরপাল্লার আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করতে সক্ষম।
এই যুদ্ধজাহাজে দেশীয় প্রযুক্তির রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা, টর্পেডো নিক্ষেপ ব্যবস্থা, সমন্বিত সাবমেরিন-বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং নিকটবর্তী প্রতিরক্ষার জন্য অত্যাধুনিক অস্ত্রব্যবস্থাও সংযোজন করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আইএনএস মহেন্দ্রগিরি ভারতের উপকূলীয় অঞ্চল এবং গভীর সমুদ্রে দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করবে।
তিনি আরো বলেন, আধুনিক যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার যুদ্ধ, মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা, অতিধ্বনি গতির অস্ত্র এবং চালকবিহীন প্রযুক্তি ভবিষ্যতের সংঘাতের চরিত্র পরিবর্তন করছে। তবে এসব উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রচলিত সামরিক শক্তিও কার্যকর প্রতিরক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। তাঁর ভাষায়, উন্নত প্রযুক্তি ও প্রচলিত সামরিক প্ল্যাটফর্ম একে অপরের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক। ভবিষ্যতের যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়লেও বিজয় নিশ্চিত করবে জাতীয় সংকল্প, প্রশিক্ষিত সেনাসদস্য এবং নির্ভরযোগ্য সামরিক শক্তি।
আইএনএস মহেন্দ্রগিরি গত ১৮ মাসে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়া দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ষষ্ঠ স্টিলথ ফ্রিগেট। এই শ্রেণির প্রথম যুদ্ধজাহাজ আইএনএস নীলগিরি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নৌবাহিনীতে কমিশন করা হয়েছিল।
ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ নকশা ব্যুরোর পরিকল্পনায় এবং মুম্বাইয়ের মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেডে নির্মিত এই ফ্রিগেট বিমান প্রতিরক্ষা, সমুদ্রপৃষ্ঠে যুদ্ধ, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান, সামুদ্রিক অবরোধ ও নজরদারিসহ বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মিশন পরিচালনায় সক্ষম।
৭৫ শতাংশের বেশি দেশীয় উপাদানে নির্মিত আইএনএস মহেন্দ্রগিরি বহুমুখী হেলিকপ্টার বহন করতে পারে। উন্নত স্টিলথ প্রযুক্তি, আধুনিক সেন্সর, নেটওয়ার্কভিত্তিক যুদ্ধব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত এই রণতরী ভারতের নিজস্ব নৌ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিলো।
সানা/ডিসি/আপ্র/১১/৭/২০২৬