চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানুষের জীবন রক্ষার মহান সেবা-এ কথা উল্লেখ করে চিকিৎসকদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তিনি বলেছেন, কঠিন অসুস্থতার সময়ে আল্লাহর পর মানুষ সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখে চিকিৎসকের ওপর। তাই রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি রোগীদের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান প্রদর্শন চিকিৎসকদের অন্যতম দায়িত্ব।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা অনেক সময় একজন রোগীর মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দেয়। শুধু ওষুধ নয়, রোগীর সঙ্গে আন্তরিক ও মানবিক আচরণও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ জন্য চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরো শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, জীবনে শুধু গ্রহণ নয়, মানুষের জন্য কিছু দেওয়ার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। নিজের কর্মজীবনের শুরুর দিকের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতি মাসের বেতনের একটি অংশ সমাজকল্যাণে ব্যয়ের জন্য উৎসাহিত করতেন। সেই শিক্ষা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি রয়েছে।
করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বন্যার সময় চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের চিকিৎসকরা ছুটি উপেক্ষা করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। চট্টগ্রামের বন্যার সময় গভীর রাতেও চিকিৎসকদের মাঠপর্যায়ে কাজ করা তাদের পেশাগত দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি জানান, একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকেই এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারাদেশে সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকার মানুষ যেমন উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গ্রামের মানুষও একই অধিকার রাখে। চিকিৎসকদের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে জনগণকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, চিকিৎসক হিসেবে সনদ অর্জনের পর থেকেই মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। মানুষের আস্থা অর্জনই একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
সানা/ডিসি/আপ্র/১১/৭/২০২৬