দেশজুড়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার একই সঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন-এই তিন পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
শনিবার (১১ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় জনজীবনে বড় ধরনের দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহ্দী আমিন বলেন, আগামীকাল দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব স্তরের সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ইউএনও, ডিসি, এসপি, পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে পরিস্থিতি সরেজমিনে তদারকির জন্য। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারাও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ইতোমধ্যে দুই কোটি টাকার বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে।
তিনি আরো জানান, উদ্ধার কার্যক্রমে উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করা হয়েছে।
বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ, সাপের কামড়ের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও টিকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত সড়ক, রেলপথ ও অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কারে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও গবাদিপশুর মালিকদের সহায়তায় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
মাহ্দী আমিন জানান, ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১১/৭/২০২৬