ব্রাজিলে চলতি বছরের প্রথমার্ধে আমাজন বনাঞ্চলে বন উজাড়ের হার এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম এই বৃষ্টিপ্রধান অরণ্য সংরক্ষণে এটি দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার পরিবেশ সংরক্ষণ নীতির বড় অর্জন হিসেবেও এ অগ্রগতিকে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ব্রাজিলের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ব্রাজিলীয় আমাজন অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার বনভূমি উজাড় হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ হার ৩৮ শতাংশ কম। ২০১৬ সালের পর এটিই প্রথমবারের মতো বছরের প্রথম ছয় মাসে বন উজাড়ের পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলে বন উজাড় উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছিল। বিশেষ করে ২০২২ সালে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সে সময় কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর শাসনামলে নিউইয়র্ক শহরের আয়তনের প্রায় ১৩ গুণ সমপরিমাণ বনভূমি উজাড় করা হয়েছিল।
বলসোনারো আমাজন অঞ্চলে খনিজ উত্তোলন ও তথাকথিত ‘টেকসই উন্নয়ন’ কার্যক্রমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, তাঁর নীতির ফলে পরিবেশ ধ্বংসের গতি বেড়েছে এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকারও হুমকির মুখে পড়েছে।
২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের অঙ্গীকার নিয়ে বলসোনারোকে পরাজিত করেন লুলা। ক্ষমতায় ফিরে তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে অবৈধ বন উজাড় সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
লুলা দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছরেই বন উজাড়ের হার প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে এ হার কমছে।
বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অরণ্য আমাজন বিপুল পরিমাণ কার্বন শোষণ করে বৈশ্বিক জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে বনাঞ্চলটির অবস্থা নিয়ে বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো নিবিড় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বন উজাড়কে ব্রাজিলের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সূত্র: রয়টার্স
সানা/ডিসি/আপ্র/১১/৭/২০২৬