বিশ্বকাপে একের পর এক চমক দেখিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ের রূপকথার যাত্রা শেষ করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করেছে টমাস টুখেলের দল। জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকালে মায়ামি গার্ডেন্সের হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
টানা দ্বিতীয় নকআউট ম্যাচেও জোড়া গোল করেছেন বেলিংহ্যাম। চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়ে। এর আগে শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষেও দুইবার জালের দেখা পেয়েছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপে ২৮ বছর পর ফেরা নরওয়ে এবার প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে সবাইকে চমকে দিয়েছিল। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে তারা শেষ বত্রিশে আইভরি কোস্ট এবং শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে শেষ আটে জায়গা করে নেয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তারা চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে।
ম্যাচের শুরুতে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল ইংল্যান্ডের। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। উল্টো ৩৬তম মিনিটে নিজেদের অর্ধে হ্যারি কেইনের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ সাজান মার্টিন ওদেগার্ড। তার পাস থেকে ডি-বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ। বিশ্বকাপে এটিই ছিল তার প্রথম গোল।
গোল হজমের পর ইংল্যান্ড আক্রমণের গতি বাড়ালেও সমতা আসে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে। অ্যান্থনি গর্ডনের পাস ধরে ডি-বক্সে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে গোল করেন বেলিংহ্যাম। যদিও গোলটির আগে নরওয়ের গোলকিক থেকে উড়ে আসা বল আকাশে ঝুলন্ত ক্যামেরার তারে লেগেছিল কি না, তা নিয়ে নরওয়ের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ আপত্তি জানায়। তবে রেফারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি।
বিরতির ঠিক আগে হ্যারি কেইন বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। ৫৬তম মিনিটে কর্নার থেকে টোরবিয়র্ন হেগেম বল জালে জড়ালেও ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় দেখা যায়, কর্নারের আগে আর্লিং হলান্ড ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।
৭৬তম মিনিটে কর্নার থেকে ক্রিস্তোফার আয়েরের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও গোল পায়নি নরওয়ে। অন্যদিকে দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডও তেমন কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ছিল ১-১। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটেই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন বেলিংহ্যাম। মরগ্যান রজার্সের দূরপাল্লার শট নরওয়ের গোলরক্ষক আরিয়ান নিলান্ডের গ্লাভস ফসকে বেরিয়ে গেলে ফিরতি বলে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে জালে পাঠান তিনি।
৯৯তম মিনিটে জেড স্পেন্সকে ফেলে দেওয়ায় প্রথমে ইংল্যান্ডকে পেনাল্টি দেন রেফারি। তবে ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে মাঠের পাশের মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত বদলে পেনাল্টি বাতিল করেন।
শেষ দিকে মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় নরওয়ে। কিন্তু ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। গোলশূন্য থাকেন টুর্নামেন্টে সাত গোল করা আর্লিং হলান্ড। অতিরিক্ত সময়ের বিরতিতে তাকে তুলে নেন কোচ স্তলে সোলবাক্কেন।
এই জয়ে ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে শিরোপা জয়ের পর ১৯৯০ ও ২০১৮ সালেও শেষ চারে খেলেছিল তারা। অন্যদিকে নরওয়ের স্বপ্নযাত্রার ইতি ঘটলেও এবারের বিশ্বকাপে তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সানা/আপ্র/১২/৭/২০২৬