হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর ওপর চাপ দিচ্ছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কূটনৈতিক বার্তায় উঠে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, যারা ওই তারবার্তা দেখেছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাতের শঙ্কায় তেলের দাম চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এ উদ্যোগ সামনে এল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতের দুই মাসেও হরমুজ প্রণালিতে কার্যত নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং বৈশ্বিক মন্দার শঙ্কা তীব্র হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করতে এবং দেশটির অর্থনীতি আরো চাপে ফেলতে বিভিন্ন বন্দরকে লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।
একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। ইরানকে আলোচনায় আনতে দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় সীমিত কিন্তু শক্তিশালী হামলার পরিকল্পনাও তৈরি হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ খবরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরো অস্থির হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৫ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। বছরের শুরু থেকে তুলনায় দাম দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং অনেক দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের ওপর চাপ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সীমিতই থাকবে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে ‘নজিরবিহীন সামরিক পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান মধ্যস্থতার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে। দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানা গেছে।
অর্থনৈতিকভাবে চাপে থাকা ইরান সম্প্রতি রেকর্ড মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের মুখে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩০/৪/২০২৬