১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউবসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে এগোচ্ছে যুক্তরাজ্য। শিশুদের অনলাইন আসক্তি ও ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষা দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা ২০২৭ সালের মধ্যেই ধাপে ধাপে কার্যকর হতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি লাইভস্ট্রিমিং, অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাতের বেলা ব্যবহারের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করে শিশুদের ‘সুস্থ শৈশব’ ফিরিয়ে দিতে সরকার অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এগুলো অনেক ক্ষেত্রে আসক্তি তৈরি করছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সামাজিক মাধ্যমে অবিরাম স্ক্রলিং এবং গভীর রাত পর্যন্ত ব্যবহারের মতো অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও নতুন নিয়ম আনার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ফিচার নিয়ন্ত্রণে এটি একটি বৃহত্তর নীতিমালার অংশ। অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক আইনকে মডেল হিসেবে বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি ব্যবস্থার পক্ষে কাজ করছে, যা শিশুদের ক্ষতিকর অনলাইন অভিজ্ঞতা থেকে রক্ষা করবে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে ব্যাপক জনপরামর্শ নেওয়া হয়েছে, যেখানে এক লাখেরও বেশি মতামত পাওয়া গেছে। অভিভাবক, প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধি এবং শিশুদের অংশগ্রহণে এটি সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বৃহৎ জনপরামর্শ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশও শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপের পথে এগোচ্ছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ ইতোমধ্যে এ ধরনের আইন বা নীতি গ্রহণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শিশু সুরক্ষায় একটি বৈশ্বিক নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহারের স্বাধীনতার পাশাপাশি নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৫/৬/২০২৬