আষাঢ়ের প্রথম দিনে রাজধানীজুড়ে বর্ষা বরণ হয়ে উঠেছে একসঙ্গে সংস্কৃতি, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দাবির বহুমাত্রিক আয়োজন। শহীদ মিনার থেকে বাংলা একাডেমি পর্যন্ত দিনভর চলেছে গান, নৃত্য, কবিতা, আবৃত্তি এবং প্রকৃতি রক্ষার বার্তা নিয়ে নানা কর্মসূচি।
সোমবার (১৫ জুন) সকালেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘বর্ষা উৎসব-১৪৩৩’ আয়োজন করে বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদ। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে রাগ ‘জয় জয়ন্তী’ পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসবে রবীন্দ্র, নজরুল, লোক ও আধুনিক সংগীতের পাশাপাশি ছিল দলীয় নৃত্য ও আবৃত্তি। অনুষ্ঠানে বর্ষা ঋতুকে ঘিরে সাজানো হয় পুরো পরিবেশনা।
উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক পুনর্গঠন এখন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট বলেন, এ ধরনের উৎসব মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করে এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, নদী, খাল, পুকুর ও বন ধ্বংসের কারণে দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশ একসময় নদীমাত্রিক ও সবুজ দেশ ছিল। এখন সেই রূপ হারিয়ে যাচ্ছে। পাহাড় কাটা, নদী দূষণ ও বন উজাড়ের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত আরো তীব্র হচ্ছে।”
একই দিনে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে বর্ষা উৎসব উদযাপন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সেখানে সকাল সাড়ে সাতটায় রাগ ‘মিয়া কি মল্লার’ পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। এরপর একক ও দলীয় নৃত্য, রবীন্দ্র, নজরুল ও লোকসংগীত পরিবেশনায় মুখরিত হয় পুরো আয়োজন।
উদীচীর আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্ষা উৎসব শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি পরিবেশ রক্ষার সামাজিক বার্তা বহন করে। তারা জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
আলোচনায় পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় নীতিমালা নিয়ে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-নদী দখল ও দূষণ বন্ধ করে নদী উদ্ধার, বন উজাড় বন্ধ, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন, হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশন ব্যবস্থা চালু করা।
বক্তারা বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় শুধু সরকার নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি।
উৎসব ঘিরে সারা দিনজুড়ে চলা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় বর্ষার গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে প্রকৃতি ও জীবনের সম্পর্ককে তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা বলেন, এই আয়োজন মানুষকে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলতে একটি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে।
সবশেষে সমবেত কণ্ঠে সংগীত ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে, যেখানে বর্ষা বরণের আনন্দের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার দৃঢ় আহ্বানও প্রতিফলিত হয়।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৫/৬/২০২৬