গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

র‌্যাবের ‘আয়নাঘরে’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৩৬ পিএম, ০১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪৮ এএম ২০২৬
র‌্যাবের ‘আয়নাঘরে’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল (টিএফআই সেল) বা ‘আয়নাঘরে’ রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে র‍্যাবের গোপন বন্দিশালা টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধির রুল ৪৬এ, রোম সংবিধির সংশ্লিষ্ট বিধান এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, এতদিন ‘আয়নাঘর’ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হলেও বিচারকদের শুধু নথি বা সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর না করে ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে লিপিবদ্ধ হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

পরিদর্শনে ভবনের ভেতরে মোট ২২টি ছোট-বড় কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, কয়েকটি কক্ষ এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও সম্ভব নয়। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষে ব্যক্তিদের হাত ও চোখ বেঁধে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো। তাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে অনেককে বিভিন্ন মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হলেও অনেকে আর ফিরে আসেননি।

তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তির কোনো সন্ধান মেলেনি। তাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীসহ আরও অনেকে রয়েছেন। গত বছরের আগস্টের পর কয়েকজন ভুক্তভোগী ফিরে এসে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার সঙ্গে মিলিয়ে আয়নাঘরের কয়েকটি নির্দিষ্ট কক্ষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম জানান, ব্যারিস্টার আরমানকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল বলে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন, তদন্তকারীরা সেটিও শনাক্ত করেছেন। একইভাবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে র‍্যাব-১ এর এই স্থাপনায় একটি কক্ষে আটকে রাখার এবং পরে তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার তথ্যও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

আমিনুল ইসলাম আরও জানান, র‍্যাব-১ এর টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর এবার ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট কথিত আরেকটি গোপন আটককেন্দ্র, জেআইসি, পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে আগামী শনিবার বিচারকেরা সেখানে বিচারিক পরিদর্শনে যাবেন।

আইনগত বিষয় তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাউকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয় এবং গ্রেফতারের কারণ জানাতে হয়। একই বাধ্যবাধকতা রয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারায়। কিন্তু আয়নাঘরে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব সাংবিধানিক ও আইনি বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, অবৈধভাবে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, গুম, নির্যাতন ও হত্যার মতো অভিযোগগুলো শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এসব অভিযোগে ইতিমধ্যে বিচার চলছে এবং আরো অনেক ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, র‍্যাবের টিএফআই সেল পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম এবং টিএফআই সেলের গুমের মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। সকাল সাড়ে ১০টার পর রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ এর কার্যালয়ে পৌঁছান তারা।

আর টিএফআই সেলের গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় মোট আসামি ১৭ জন। তাদের মধ্যে ১০ জন অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার রয়েছে। তারা তখন র‍্যাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে জানা গেছে।

এ মামলার আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন, মো. হারুন অর রশিদ এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম পলাতক।

এর আগে, ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ টিএফআই সেল পরিদর্শনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

এসি/আপ্র/০১/০৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সরকারি চাকরিতে তদবির করলেই ব্যবস্থা
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরিতে তদবির করলেই ব্যবস্থা

সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরের ঘটনা ঘটলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির...

আজ আন্তর্জাতিক সমমজুরি দিবস, কেন কম নারীর মজুরি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ আন্তর্জাতিক সমমজুরি দিবস, কেন কম নারীর মজুরি

নারী ও পুরুষের আয়ের বৈষম্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক সমমজ...

সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘে ভাষণ যেদিন
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘে ভাষণ যেদিন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে যাচ্ছেন প্রধা...

নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদে‌শে নিযুক্ত মা‌র্কিন র...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

জুয়া ও মাদক অনেক অপরাধের মূল কারণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমানে সংঘটিত অনেক অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদককে অন্যতম মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধের পর শুধু গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তি দিলেই এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধ কেন সংঘটিত হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করে তা মোকাবিলা করতে হবে। প্রিয় পাঠক, মন্ত্রীর কথার সঙ্গে আপনি কি একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে